অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হোক

দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই প্রায় ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ফলে জীবনহানি, অগ্নিদগ্ধ হয়ে বেঁচে থাকা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর বনানীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কেন এত ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, সে প্রশ্নই এখন সবার মনে। ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএসএসএবি) তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর আগুনে পুড়ে গড়ে ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হচ্ছে গড়ে প্রায় ৫ হাজার। এছাড়া আগুনে প্রতি বছর গড়ে ৪ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকার সম্পদ ভস্মীভূত হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে অন্তত ১৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত আট বছরে সারা দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মানুষ।

মূলত অসচেতনতা ও আইন না মানার কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ দুটি কারণ ছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে। জীবনযাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করলে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। এক্ষেত্রে ঘরের ভেতরে ম্যাচের কাঠি, সিগারেট, লাইটার ইত্যাদি ব্যবহারে সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট ইত্যাদি নিয়মিত চেক করতে হবে। যদি কোথাও কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের ব্যবস্থা নিতে হবে। দাহ্য পদার্থ বাড়িতে না রাখাই ভালো, রাখলেও সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিটি কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠানে ইমার্জেন্সি ফায়ার এক্সিট আছে কি না, সেটা দেখতে হবে। প্রতিটি বিল্ডিংয়ে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিয়মিত কাজ করা প্রত্যেক কর্মচারীকেই অগ্নি নির্বাপণব্যবস্থা কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটার ট্রেনিং নিতে হবে। মাসে একবার হলেও নিয়মিত ফায়ার ড্রিলের ব্যবস্থা করতে হবে। ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে ভবন খালি হলে কোন দিক দিয়ে বেরোতে হবে সেটার অনুশীলন করতে হবে, যাতে বাস্তবে আগুন লাগলে মানুষ দিশেহারা হয়ে না যায়। প্রতিটি বাড়ি ও অফিসে ফায়ার ডিটেক্টর বা অ্যালার্ম রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

অগ্নিকাণ্ড কখন ঘটবে, তা আগেভাগে বোঝার উপায় নেই। তবে সচেতন হলে দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য আগুন নেভানোর চেয়ে আগুন যেন না লাগে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এর পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি বাড়াতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা