এসব ঘটনা বৃহত্ সামাজিক অবক্ষয়কে উন্মোচন করেছে

পরীমনিসহ কয়েক জন নারীকে গ্রেফতার-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পরীমনিসহ কয়েক জন নারীকে গ্রেফতার পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুবিচার দাবি করেছে নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটি। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি বলেছে, এসব ঘটনা একধরনের বৃহত্ সামাজিক অবক্ষয়কে উন্মোচন করেছে ।

গত রবিবার নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসহ কয়েক জন নারীকে গ্রেফতার-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি বিষয়ে অনলাইন মতবিনিময় সভায় এ দাবি ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, কমিটির সম্মানিত সদস্য বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, সোহরাব হাসান, বাসুদেব ধর, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক এম এম আকাশ, ব্যারিস্টার তানিয়া আমির, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ। জাতীয় কমিটির পক্ষে সুপারিশ তুলে ধরেন জাতীয় কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম।

মতবিনিময় সভায় কমিটির সদস্যবৃন্দ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিসহ কয়েক জন নারীকে গ্রেফতার-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ও সুবিচার দাবি করেন। তারা বলেন, আমাদের সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার কোনোটিরই উপস্থিতি এখন দেখা যায় না। সমাজে নারীর মর্যাদা আছে কি না, তার প্রকৃত অবস্থা উপস্থাপন হয়েছে পরীমনির ঘটনার মধ্য দিয়ে। অভিযুক্তের বিচার আইনি ধারায় একই রকম হওয়ার কথা থাকলেও নারী হলে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। এখানে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। নারীর প্রতি যে অসম্মানজনক আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মামলা দায়ের হলেই একজন আসামি দোষী হয় না। বিচারের আগে কাউকে সম্মানহানি করা যায় না। একজন মানুষকে হেনস্তা করা বা তাকে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা যায় না। বিত্তবানেরা যে সংস্কৃতি তৈরি করছে সেখানে নারীর নিগ্রহ প্রকট হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বর্তমানে পরীমনির ঘটনা বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টার চলছে। অভিযুক্তের বিচার আইনি ধারায় একইরকম হওয়ার কথা থাকলেও নারী হলে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, যে জলজ্যান্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা শেষ হওয়ার নয়। এখানে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার যে ঘটনা ঘটছে তাতে স্পষ্ট হয় নারীরা অনেক কঠিন অবস্থার মধ্যে বসবাস করছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে যেভাবে পরীমনির ঘটনা আলোচিত হয়েছে, তা অত্যন্ত অমূলক। পরীমনির মানবিক মর্যাদা এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে।