আফগান বাহনীকে হটিয়ে তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলে নেওয়ার পর বিদেশি সেনাদের দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চলতি মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে তারা। নানা প্রতিকূলতার কারণে বিদেশি সেনাদের সরিয়ে নিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছিল সময় কিছুটা বাড়াতে পারে তালেবান। কিন্তু তারা বলে দিয়েছে, ৩১ তারিখই শেষ দিন বিদেশি বাহিনীর নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে একথা বলেছেন তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন। তিনি বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য যদি সেনা প্রত্যাহার অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত সময় চায় তবে তালেবান তাতে সম্মতি দেবে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এ প্রতিনিধি বলেন, অবশ্যই না। সময় বাড়ানো যাবে না। বরং এই সময়ের মধ্যে আফগানিস্তান না ছাড়লে তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদি তারা সময় বাড়াতে চায় তবে বুঝতে হবে তাদের অন্য চিন্তা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, তারা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করে না নেয়, তবে আমাদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হবে। যদি তারা আফগানিস্তানে দখলদারি মনোভাব অব্যাহত রাখে তবে আমরাও এর উপযুক্ত জবাব দেব।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বলেছেন ৩১ আগস্টের মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহার করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লোকজনকে সরানোর জোর তত্পরতা চলছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় সময় রবিবার হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত সপ্তাহ থেকে বিমানবন্দর থেকে ২৮ হাজার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদী যে, সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।
তবে বাইডেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনা সরানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেও কাবুল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে মার্কিন সেনাদের আরো বেশি দিন রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর নেতারা মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসবেন। বরিস জনসন এ বৈঠকে বিষয়টি সেখানেও উত্থাপন করবেন এবং সেনা প্রত্যাহার এখনই না করতে বাইডেনকে আহ্বান জানাবেন। জি-৭ এর এই নেতাদের বৈঠক হবে ভার্চুয়ালি। বর্তমানে এ জোটের সভাপতিত্ব করছে যুক্তরাজ্য। আফগানিস্তানের ভবিষ্যত্ নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হবে।
কাবুল বিমানবন্দরে গোলাগুলি :এদিকে, কাবুল বিমানবন্দরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের সঙ্গে পশ্চিমা নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান রক্ষীদের গোলাগুলি হয়েছে বলে জার্মানির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে। গতকাল সোমবারের এ ঘটনায় একজন আফগান রক্ষী নিহত ও আরো তিন জন আহত হয়েছেন বলে টুইটারে জানিয়েছে তারা। এ লড়াইয়ে মার্কিন ও জার্মান বাহিনীগুলোও জড়িয়ে পড়েছে। বিমানবন্দরটির বাইরে শৃঙ্খলা বজার রাখার জন্য নিজেদের যোদ্ধাদের মোতায়েন করেছে তালেবান, আর ভেতরে আফগান রক্ষীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলোকে সহায়তা করছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইরে থেকে এক স্নাইপার বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা আফগান রক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি করলে তারা পালটা গুলি করে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আফগান রক্ষীদের দিকে গুলি ছোড়ে।
উল্লেখ্য, ১৫ অগাস্ট তালেবান কাবুল দখল করে নেওয়ার পর থেকে সেখান থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার আফগান ও বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরটিতে জড়ো হয়েছেন, তারা সবাই আফগানিস্তান থেকে পালাতে চাইছেন।