দিনাজপুরে গতকাল সোমবার পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর উপশহরে চার কিশোর এবং চিরিরবন্দর উপজেলায় তিন যুবক বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলায় নিহতরা হলো—আইনুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (১৩), বাবুল হোসেনের ছেলে আপন (১৪), মৃত সিদ্দিক হোসেনের ছেলে হাসান আলী (১২) ও সাজু মণ্ডলের ছেলে মিম মণ্ডল (১৩)। আহতরা হচ্ছে—মমিনুল ইসলাম, আতিক এবং অপর এক জন। হতাহতদের সবার বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ হোসেন ও হাজি মকসেদ আলী জানান, গতকাল প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের সময় দিনাজপুর উপশহরের ৮ নম্বর রেলঘুন্টির কাছের একটি টিনশেডের মধ্যে মোবাইলে গেম খেলছিল সাত কিশোর। এ সময় বজ্রপাত তারা গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চার জনের মৃত্যু হয়। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন চার জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে চিরিরবন্দর উপজেলার দক্ষিণ সুকদেপুর গ্রামে পুকুরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে একসঙ্গে নিহত হয়েছে তিন জন। নিহতরা হলেন—দক্ষিণ সুকদেবপুর গ্রামের মকছেদ আলীর ছেলে নুর ইসলাম (২৪), সামু মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৩) ও আলতাফ হোসেনের ছেলে আব্বাস আলী (২২)। চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামঞ্জের হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নে দুগনুই গ্রামের হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব মিয়া (১৬) চামারদানি ইউনিয়নের দুগনুই গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে ও সাইদুর মিয়া (৩০) একই বাড়ির চাচাতো ভাই মুকলিব আলীর ছেলে।
গতকাল প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের মাঝে নৌকা দিয়ে কাইলানীর হাওরে তিন জন মাছ ধরতে গেলে হঠাত্ বজ্রপাতে নৌকায় থাকা অবস্থায় তিন জনের মধ্যে দুই জন পানিতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ দুজন আপন চাচাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বজ্রপাতের ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসী মিলে হাওরের পানিতে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যায় দুজনের মৃতদেহ হাওরে ভেসে উঠতে দেখে তারা লাশ দুটি উদ্ধার করে।