নওগাঁর মহাদেবপুরে মিঠুন চৌধুরী (২৭) নামে এক নার্সারি ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে তিন দিন আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও তার স্ত্রী শ্যামলী রাণীর (২৫) চুল কর্তনের ঘটনার সাত দিন পর অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত স্থানীয় যুবদল নেতা রুহুল আমিনের দুই স্ত্রী রুবাইয়া আকতার বৃষ্টি (২২) ও মুক্তা পারভীনকে (২১) গ্রেফতার করেছে। তবে মূল আসামি যুবদল নেতা রুহুল আমিন (২৮) ও তার সহযোগী তরিকুল ইসলাম এখনো গ্রেফতার হয়নি।
রুহুল মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ হোসেনপুর বোয়ালমারী মোড়ের চাতাল ব্যবসায়ী আবুল কালামের ছেলে। তরিকুলের বাড়ি পত্নীতলা উপজেলার ছোট চাঁদপুর গ্রামে ।
নির্যাতনের শিকার মিঠুন চৌধুরী পত্নীতলা উপজেলার উত্তর মামুদপুর গ্রামের কৃষ্ণ চৌধুরীর ছেলে ও মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী রাণী। তারা পত্নীতলা উপজেলায় আত্রাই নদের ওপর সেতুসংলগ্ন সওজের রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে বসবাস করেন।
নির্যাতনের শিকার শ্যামলী রাণী জানান, রুহুল আমিন তাদের নার্সারি থেকে প্রায়ই চারাগাছ কিনতেন। এক সময় গাছের টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৫ আগস্ট সকালে রুহুল জোর করে মিঠুনকে গাড়িতে উঠিয়ে মহাদেবপুরে নিয়ে যান। সেখানে মিঠুনকে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। শ্যামলী বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু রুহুল ও তার লোকেরা আরো টাকা চান। টাকা না পেয়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিঠুনের পায়ের রগ কেটে দেয়, হাতের আঙুল জখম করে ও হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
১৭ আগস্ট শ্যামলী মহাদেবপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলামকে বিষয়টি জানিয়ে রুহুলের বয়লারে যান। সেখানে রুহুল ও তার দুই স্ত্রী শ্যামলীকে বেদম প্রহার করে তার মাথার চুল কেটে দেয়। পরে এসআই সাইফুল সেখানে উপস্থিত হয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় শ্যামলী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করেন। গত রবিবার ঘটনাটি জানাজানি হলে রাতে থানা পুলিশ শ্যামলী রাণীকে পত্নীতলা থেকে তুলে এনে মহাদেবপুর থানায় মামলা করে।
মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় নির্যাতনের শিকার শ্যামলী রাণী বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় চার জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। রাতেই থানা পুলিশ রুহুলের বাসায় অভিযান চালিয়ে তার দুই স্ত্রীকে আটক করে। কিন্তু মূল আসামি রুহুল পালিয়ে যায়।