পদ্মা সেতু :শেষ হলো রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ

পদ্মা সেতুতে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন

পদ্মা সেতুতে রোডওয়ে স্ল্যাব (ডেকস্ল্যাব) বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সড়কপথের শেষ স্ল্যাবটি বসানো হয়। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সেতু প্রকল্পের আরো একটা মাইল স্টোন অর্জন করলাম। সেতু প্রকল্পের সড়কপথের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়ে গেল। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তা অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হবে। সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলার কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী বছরের (২০২২) সালে জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের আরো জানান, মূল সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে শেষ স্ল্যাবটি বসানোর ফলে সবগুলো স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হলো। সবগুলো স্ল্যাব বসাতে সময় লেগেছে তিন বছর পাঁচ মাসের মতো। মাওয়া থেকে জাজিরা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সড়কপথের কাজ শেষের দিকে। এখন এর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য বাকি থাকল শুধু পিচ ঢালাই কাজ। প্রথম প্রি-কাস্ট রোডওয়ে স্ল্যাবটি বসানো হয়েছিল ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ । সর্বশেষ স্ল্যাবটি বসানো হলো বলে তিনি জানান । পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রকল্পের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সবগুলো রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো শেষ হওয়ায় খুবই খুশি সংশ্লিষ্টরা।

তিনি আরো জানান, সব রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো শেষ হলেও সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যানবাহন নিয়ে যাওয়া যাবে না। কারণ আটটি স্থানে ফাঁকা রয়েছে। সাতটি মডিউলে ভাগ করা মোট ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু। প্রতি দুই মডিউলের সংযোগস্থলে প্রায় ৩০ ফুট করে ফাঁকা রয়েছে। সেখানে শাটারিং করে ঢালাই সম্পন্ন করতে হবে। স্প্যানগুলোর (ট্রাস) মধ্যে একদিকে জোড়া লাগানো হচ্ছে। অন্যদিকে মডিউলের ফাঁকা জায়গায় স্ল্যাব কাস্টিং করা হবে। ইতিমধ্যে একটি স্ল্যাব কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আছে আরো ১৩টি। মডিউলগুলোর সংযোগস্থলে স্ল্যাব কাস্টিং শেষ হলেই যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে জানান তিনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের আরো জানান, বর্তমানে দুই মডিউলের মধ্যে ফাঁকা আছে, যেখানে স্থায়ীভাবে স্টিলের ?মুভমেন্ট জয়েন্ট বসবে।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুন পদ্মা সেতুর সব রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হয়েছিল। এ পর্যন্ত মূল সেতুর প্রায় ৯৪ দশমিক ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।