মেয়র ও প্রশাসনের সমঝোতায় স্বস্তি ফিরেছে বরিশালে

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। রবিবার রাতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবনে এ সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর গতকাল সোমবার সকাল থেকেই নগরীতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। নগরীর সদর রোড, গীর্জা মহল্লা, কাটপট্টি,                 বাংলাবাজার, নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে বেশির ভাগ দোকান খোলা রয়েছে। স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বরিশাল মহানগরী।

সমঝোতা বৈঠকের পর সেখানে উপস্থিত কেউ বক্তব্য না দিলেও রবিবার রাত ১২টার দিকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বাসভবনে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তিনি বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল, সেটা সমাধানের জন্য বৈঠক হয়েছে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের আহ্বানে তার বাসভবনে।  বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, মেট্রোপলিন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, র্যাব-৮-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি জামিল হাসান, বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল ইসলাম লিটুসহ আমি নিজে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও চেয়েছিলেন আমরা সমাধানে বসি, আমাদের অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারের কথা হয়েছে। এতে সবাই খুশি হয়েছেন। ইনশাল্লাহ ওনাদের দায়ের করা দুইটি মামলা প্রত্যাহার হবে। এতে জামিন সহজ হবে। আমাদের দায়ের করা দুইটি মামলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, সেটা নিয়ে আমরা বসব।

গতকাল সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বরিশালের বর্তমান পরিস্থিতির সমাধানে আমরা বসেছিলাম। আলোচনা হলেও মামলা প্রত্যাহারে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আইনি কাঠামোর মধ্যেই সিটি করপোরেশন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সমাধান হবে। সমাজে নানান ধরনের ঘটনা ঘটে, সেগুলোর সামাজিক, আইনগত বা অন্য যে সমস্ত সুষ্ঠু সমাধানের পথ আছে, সেখান থেকে সব সমাধানই খুঁজে পাওয়া যাবে। আমরা যারা আলোচনা করেছিলাম, তারা সবাই একমত হয়েছি যে—আমরা সবাই বরিশালের ভালো চাই, বরিশালে সুন্দর আইনশৃঙ্খলা চাই, বরিশালের সুন্দর উন্নয়ন চাই। যাতে সামনের দিনগুলোতে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে পারি, পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে পারি—সেরকমই একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা যারা সরকারি কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ—সবাই মিলে একসঙ্গে সুন্দরভাবে কাজ করব। আমরা একই লক্ষ্যে কাজ করব সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ আগস্ট রাতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভুল বোঝাবুঝির কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল তার অবসানকল্পে রবিবার রাতে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অতীতের সব ভুল বোঝাবুঝি ভুলে গিয়ে নান্দনিক বরিশাল গড়ার লক্ষ্যে নগর প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন ঐক্যবদ্ধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বরিশালের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট এস এম ইকবাল বলেন, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়ে সমঝোতা বৈঠক হয়েছে তা অত্যন্ত ভালো খবর। তবে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরলে আরো ভালো হতো।

প্রসঙ্গত গত বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের ছোড়া গুলিতে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ আহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বরিশালে। গ্রেফতার করা হয় ২২ জনকে এবং দুইটি মামলা দায়ের করা হয় যাতে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়। এর পরেই বরিশাল বিভাগের সব পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতারা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশও আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার রাতে বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদলের আমন্ত্রণে তার বাসভবনে সমঝোতা বৈঠকে বসেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বৈঠকে পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসকসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।