তালেবানের বিরুদ্ধে লড়তে আমাদের হাজার হাজার যোদ্ধা প্রস্তুত

কাবুলের উত্তরে তালেবান বনাম উত্তরের জোট (নর্দার্ন অ্যালায়েন্স)-এর লড়াই ঘিরে সামনে আসছে নানা পরস্পর বিরোধী খবর। তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ সোমবার আফগান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পঞ্জশির ঘিরে ফেলেছি।’ অন্যদিকে, তালেবান-বিরোধী জোটের সামরিক নেতা আহমেদ মাসুদের শিবির একই দিন দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পঞ্জশিরমুখি তালেবান বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে মোট ৩০০ জনকে তারা হত্যা করেছে।

পঞ্জশির প্রদেশের পাশাপাশি, পারওয়ান, বাঘলান এবং উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের কপিসা প্রদেশ থেকেও সংঘর্ষের খবর এসেছে গতকাল সোমবার। তালেবান-বিরোধী জোটের দাবি, পখতিয়া এবং কুন্দুজ প্রদেশে পার্বত্য এলাকায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সেনাবাহিনীর সদস্যদের একাংশ তালেবান-বিরোধী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তালেবানের বিরুদ্ধে লড়তে তাদের হাজার হাজার যোদ্ধা প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছে বিরোধী এই গ্রুপটি। আফগানিস্তানে একের পর এক প্রদেশ এক প্রকার বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করলেও সে পথে হাঁটেনি হিন্দুকুশ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্জশির উপত্যকা। ১৫ আগস্ট তালেবান যোদ্ধারা কাবুল দখলের পরও দখলের বাইরে ছিল এই এলাকার বেশ কয়েকটি প্রদেশ। আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বে তালেবানের বিরুদ্ধে এখনো লড়াইয়ে প্রস্তুত তারা। আশরাফ ঘানি শাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহও রয়েছেন তার সঙ্গে। রয়েছেন, জৌঝান প্রদেশের যোদ্ধা উজবেক সেনা কর্মকর্তা  রশিদ দোস্তমও।

তবে মাসুদ জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন এক সপ্তাহ আগে কাবুলে ক্ষমতা দখলকারীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা হবে। রক্তপাত ছাড়া যদি শান্তি আসে তবে তারা রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন। কাবুলের উত্তর-পশ্চিমে পার্বত্য পাঞ্জশির উপত্যকায় মাসুদের শক্ত ঘাঁটি। সেখানে থেকে টেলিফোনে তিনি রয়টার্সকে বলেন, আমরা তালেবানকে উপলব্ধি করাতে চাই—আলোচনাই এগিয়ে যাওয়া একমাত্র উপায়।