ঘরবন্দি শিশুদের সামাজিকীকরণ

সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশু ব্যক্তিত্বপূর্ণ সামজিক মানুষে পরিণত হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পযন্ত জীবনের নতুন নতুন ধাপে প্রবেশের পর জীবনধারণ পদ্ধতিতে যে নতুন রীতি-নীতি ও পরিবেশ-পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াই মূলত সামাজিকীকরণ। আর এই সামাজিকীকরণ ক্ষমতা আর্জনের মাধ্যম হলো পরিবার, খেলার সাথি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম। পরিবারের নানা উপাদান যেমন বংশগতি ব্যক্তিত্ব গঠনের কাঁচামাল, সংস্কৃতি হলো নকশা এবং বাবা-মা কারিগর হিসাবে কাজ করেন। আবার খেলার সাথিদের থেকে একটি শিশু সহযোগিতার মনোভাব ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করে। খেলাধুলার সময় একে অপরে সহযোগিতা করার ফলে যেমন সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়, আবার যখন সে তার দলের নেতৃত্ব দেয় তখন তার নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থেকে তারা সমাজিক মূল্যবোধ  শেখে। শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ভালো-মন্দ বিচারক্ষমতা অর্জন করে। আবার গণমাধ্যম যেমন পত্রিকা, ম্যাগাজিন, টেলিভিশন ইত্যাদিও ভূমিকা রাখে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে শিশুরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দি। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে শিশুদের মিশতে ও খেলতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের সঙ্গীদের সঙ্গে। ফলে ঘরে বসে একঘেয়েমি কাটাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে তারা। এর ফলে আবার তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ভুলে যাচ্ছে। যেহেতু নিজস্ব সংস্কৃতিকে ব্যক্তিত্ব গঠনের নকশা বলা হয়, সেহেতু শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন খর্ব হচ্ছে—এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ হচ্ছে না। অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা হলেও নানা সমস্যার কারণে উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। তবে গণমাধ্যমগুলো কিছুটা ভূমিকা রাখছে। আজকের শিশু যেহেতু আগামী দিনের ভবিষ্যত্; তাই আজকের শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ না হলে, সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে, আগামী দিনে তারা দেশের সম্পদ হওয়ার পরির্বতে দেশের বোঝা হবে নাকি?  তাই শিশুকে ব্যক্তিত্বপূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হলেও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ও দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া অতীব জরুরি।

আবদুর রহমান

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া