বোয়ালী-নাকশালা সড়ক কাদামাটিতে বেহাল

সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

থকথকে কাদায় ঢাকা সড়ক। এ সড়কে চলাচল করতে পারে না কোনো যন্ত্রচালিত যানবাহন। গরু-ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ঐ সড়ক পার হতে হয়। আনা-নেওয়া করা হয় পণ্য। এ চিত্র উপজেলার বোয়ালী-নাকশালা পথে চার কিলোমিটার কাঁচা সড়কের। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বারবার জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও কর্দমাক্ত সড়কের কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, চলতি বর্ষায় উপজেলার নাকশালা বাজার থেকে লাঙ্গুলিয়া বটতলা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঐ সড়কে যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর। তবুও কিছু মানুষ সড়কের থকথকে কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রসূতি মা, মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা। অথচ ঐ সড়কটি উপজেলার যাদবপুর, পাহাড়কাঞ্চনপুর, দেওবাড়ী, দাড়িয়াপুর, কাঙ্গালীছেও, লাঙ্গুলিয়া এবং বোয়ালী গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের মাধ্যম। ঐ সড়কে যাতায়াতকারীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

দাড়িয়াপুর আকন্দপাড়া গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি চালক নাসির উদ্দিন বলেন, ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে তিনি পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এই সড়কের কাদার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল পরিবহন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে এতো উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে অথচ স্বাধীনতার এতো বছরেও আমাদের এ সড়কটির উন্নয়ন করা হলো না। চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন বলেন, কোনো রোগী বা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও বিপদে পড়তে হয়। বর্তমানে ঘোড়া বা গরুর গাড়ি ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প যানবাহন নাই। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এস এম হাসান ইবনে মিজান বলেন, ঐ সড়কসহ উপজেলার আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণের জন্য ‘টাঙ্গাইল উন্নয়ন প্রজেক্ট’ তালিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়কগুলো টেন্ডার প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।