আমনের ব্যাপক আবাদ
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
রাঙ্গুনিয়ার বিলগুলো এখন যেন সবুজের গালিচা। দিগন্তবিস্তৃত গুমাই বিল, শিলকের তৈলিয়াভাঙ্গা বিলসহ কোদালা, উত্তর রাঙ্গুনিয়া, বগাবিলি, লালানগর, দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর, পোমরা, বেতাগী, পারুয়া, সরফভাটা, পদুয়া, হোসনাবাদ ও স্বনির্ভর বিলে লাগানো আমন রোপায় সবুজের সমারোহ।
গুমাই বিলের কৃষক আবুল হক, আকবর আলী, ফজলুল কাদের, আব্দুর রহমানসহ অনেকে জানান, ইদানীং এলাকায় কৃষকের মধ্যে চাষাবাদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি কর্মকাণ্ডে বিলে বিলে চঞ্চলতা ফিরেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোকন বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও উপজেলার গুমাই বিলে ৩ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে উচ্চফলনশীল (উফশী) ছাড়াও স্থানীয় জাতের বিন্নি, কালিজিরা ও আমনের চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষকের মধ্যে সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ দত্ত জানান, উপজেলার কোদালা বিলেও সহস্র হেক্টর জমিতে একইভাবে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন এবং রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় ছোট-বড় ৭০টিরও বেশি বিলে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রার ১৫ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৮৬ হাজার ৬১৩ মেট্রিক টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন বিলের উর্বর জমিতে মৌসুমের ধানের উত্পাদন প্রতি বছরই ভালো হয়। চলতি আমন মৌসুমে প্রতি বছরের মতো এবারও চাষাবাদে উত্সাহিত করতে কৃষকদের মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ, সার এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার বলেন, কৃষকদের যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্য তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।