পাহাড় নিধন, পাহাড়ে অপরিকল্পিত বসবাস ও স্থাপনা নির্মাণ ইত্যাদি যদি বন্ধ করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ১৩ প্রজাতির বিপন্ন উদ্ভিদ এবং ৩৬৬টি ঔষধি উদ্ভিদসহ মোট ৪৯৫টি উদ্ভিদের মধ্যে প্রায় ১৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ হারিয়ে যাবে। যার ফলে নগরীর পরিবেশ বিপন্ন হবে। এদিকে চট্টগ্রাম শহরে ৪৯৫ উদ্ভিদের মধ্যে ৩৬৬ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম শহরের প্রাণ-প্রকৃতি, উদ্ভিদ বৈচিত্র্য নিয়ে পরিচালিত সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ইফেকটিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপেনিয়নের (ইকো) উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় এসব উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া যায়। ‘ইকো’ পরিচালিত গবেষণার ফলাফল গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইকোর সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, ইকোর সভাপতি মোহাম্মদ সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এস এম আবু ইউসুফ সোহেল, সাহেদ মুরাদ সাকু প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত মার্চ মাস থেকে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় শনাক্ত মোট ৪৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ১৭৭ প্রজাতির বড় বৃক্ষ, ৮৬ প্রজাতির গুল্ম জাতীয়, ১৭৯ প্রজাতির বিরুত্ জাতীয় ও ৫৩ প্রজাতির লতা জাতীয় উদ্ভিদ পাওয়া গেছে। আবার এর মধ্যে ৩৬৬ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেছে যেগুলো ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিপন্ন প্রায় ১৩টি এবং ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে এমন প্রজাতি পাওয়া গেছে ১৩৭টিরও বেশি। ৩০টির বেশি প্রজাতি পাওয়া গেছে যেগুলো এখনো পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি গবেষক দল। চট্টগ্রাম নগরীর ২০টি স্পটে জরিপের মাধ্যমে উদ্ভিদ শনাক্ত করে গবেষণার মাধ্যমে আটটি শ্রেণিতে এদের ভাগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা কার্যক্রমে গবেষণা দলে সহযোগী হিসেবে আরো ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, সজীব রুদ্র, আরিফ হোসাইন, সনাতন চন্দ্র বর্মণ, মো. মোস্তাকিম এবং ইকরামুল হাসান।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় ২০১ প্রজাতি, নগরীর ডিসি হিলে ১৩২ প্রজাতি, ওয়ার সিমিট্রিতে ৯১ প্রজাতি, টাইগারপাসে ২১০ প্রজাতি, রেলওয়ে সেগুনবাগান এলাকায় ৪৯ প্রজাতি, কাননধারা আবাসিক এলাকায় ১৩৫ প্রজাতি, গোলপাহাড় এলাকায় ১২৭ প্রজাতি, ডাকবাংলো পাহাড়ে ১০৬ প্রজাতি, ডানকান পাহাড়ে ১৮১ প্রজাতি, গোলাপ মিয়া পাহাড়ে ১৫৯ প্রজাতি, বায়েজিদ-ভাটিয়ারি লিংক রোডে ২১৬ প্রজাতি, জয় পাহাড়ে ২০৭ প্রজাতি, মতিঝর্ণা এলাকায় ১৯৯ প্রজাতি, মেরিন ড্রাইভে ৪৫ প্রজাতি এবং ওমরগনি এমইএস কলেজসংলগ্ন পাহাড়ে ১৩০ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত মোট ৪৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ৩৫৪টি দেশীয় প্রজাতির। বাকি ১৪১টি বিদেশি প্রজাতির।