মন্ত্রণালয় কোনো আদেশ দেয়নি :মন্ত্রী

সচিবের মায়ের সেবায় তারা এখন আর নেই

করোনা আক্রান্ত হয়ে জাতীয় হূদেরাগ ইনস্টিটিউটের করোনা ইউনিটে ভর্তি মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মায়ের সেবায় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাউকে দেখা যায়নি। তবে এক দিন আগেও এক উপসচিবসহ ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী পালাক্রমে সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের লিখিত নির্দেশনা দিয়ে তিন দিনের জন্য চার শিফটে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল।

যদিও মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের মায়ের চিকিত্সার জন্য কর্মকর্তাদের ছুটি দিয়ে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি ইস্যু করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সচিব রওনক মাহমুদের একান্ত সচিব মো. আজিজুল ইসলাম ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব সমন্বয় করছেন। তিনি নির্দেশনাও দিয়েছেন। তার নির্দেশনা সংবলিত চিঠি ইত্তেফাকের হাতে রয়েছে। তবে মো. আজিজুল ইসলাম নির্দেশনার কথা অস্বীকার করে গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি এই ধরনের নির্দেশনা জারি করি নাই। সরকারি আদেশ হলে স্মারক নম্বর থাকে। এখানে কিছুই নাই। এমনকি আমার নামটিও ভুল ছাপা হয়েছে। আর এ বিষয়ে মন্ত্রী যেহেতু কথা বলেছেন সেহেতু এ নিয়ে আর কথা বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।’

গতকাল সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় করোনা ইউনিটের আইসিইউর ২ নম্বর বেডে চিকিত্সাধীন রয়েছেন সচিবের মা। তার সেবা-শুশ্রূষা করছেন সচিবের মেজো ছেলে শামসুল হকের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরাই তাকে দেখাশোনা করছেন। মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে কেউ এসছে কি না, তা তার জানা নেই।

তবে হাসপাতালে একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন, গত সোমবার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী পালাক্রমে সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তারা সেখান থেকে চলে যান। সচিবের একান্ত সচিবের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সচিবের মায়ের সার্বিক অবস্থা সার্বক্ষণিক জানাতে হবে পিএসকে, চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযোগ, টেস্ট করানোর ও তা দ্রুত সংগ্রহ করা এবং হোয়াটসঅ্যাপে সচিবের পিএসকে রিপোর্টের কপি পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকতে হবে রোগীর কাছাকাছি, রোগীর এটেন্ডেনের কাছে জানান দিতে হবে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি।

গতকাল মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম। গণমাধ্যমের সূত্র ধরে শুনেছি যে আমাদের মন্ত্রণালয়ের সচিবের মায়ের চিকিত্সার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরে এ বিষয়ে আমি সচিবকে জিগ্যেস করলে তিনি বলেছেন, আমি কাউকে এ ধরনের কাজ করতে বলিনি। মন্ত্রী বলেন, সচিব নিজেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন তার ৯৫ বছর বয়সি মা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। হয়তো মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কেউ কেউ হাসপাতালে সহানুভূতি জানাতে গেলেও যেতে পারেন। সেখানে তিনি কাউকে দায়িত্ব দেননি। মন্ত্রণালয়ের সচিবের মায়ের দেখভাল করার জন্য কাউকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সচিব অসুস্থ থাকা অবস্থায় আমি নিজেও তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। আমার তো মনে হয় আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকলে গণমাধ্যমের অনেকেও সহানুভূতি জানাতে বা খবর নিতে যেতে পারেন বা অন্য কেউ যেতে পারেন। একইভাবে তাকেও দেখতে যেতে পারেন বা সহানুভূতি জানাতে পারেন। মন্ত্রণালয় থেকে যেসব চিঠি ইস্যু করা হয় তার একটা দাপ্তরিক তারিখ থাকে, সময় থাকে এবং কর্মকর্তার সই থাকে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কাউকে দায়িত্ব দিয়ে কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি।