কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মান নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকটি গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেসব কৃষিপণ্য রপ্তানি হবে, সেগুলো যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়। সঠিক আইনকানুন মেনে, হাইজিন মেনে পণ্য পাঠাতে হবে। সভায় ১৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে স্থাপিত উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর প্রকল্প অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। সভায় জানানো হয়েছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ সংরক্ষণ কনভেনশনের স্ট্যান্ডার্ড সেটিং বডি কর্তৃক প্রণীত বিধিবিধান অনুসরণ করার দক্ষতা অর্জন করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রকল্পটি চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, বর্তমানে কৃষি থেকে ১০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় হয়। সঠিকভাবে মান যাচাই করে কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আরো বৃদ্ধি পায়। কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আরো সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি সংশোধিত। নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ ও সংশোধিত প্রকল্পে বাড়তি বরাদ্দ মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৪১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৩ হাজার ৩৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো, ৬৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদারগঞ্জ-কয়রা-মনসুরনগর (কাজীপুর)-আব্দুল্লাহ মোড় (সরিষাবাড়ী)-ধনবাড়ী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহে কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ২০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দারিদ্র্যবিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প,  ১০৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (ডিওএফ পার্ট) প্রকল্প, ১৮০ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর জেলার ঢেপা, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদ-নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, ৭৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন প্রকল্প।

এছাড়া সভায় আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট :ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৮১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুন মেয়াদে শেষ হওয়ার লক্ষ্য ছিল। এখন ৭৪৬ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের এপ্রিল মেয়াদে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যয় বৃদ্ধি পেল ৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

প্রকল্প অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বন্যাপ্রবণ এলাকায় সড়ক নির্মাণে মাঝে মাঝে কালভার্ট রাখতে হবে। বর্তমানে দেখা যায়, প্রকৌশলীরা শুধু প্রাকৃতিক খাল থাকলেই সেখানে কালভার্ট দেন। কিন্তু রাস্তার মাঝেমাঝেই পানি চলাচলের জন্য কালভার্ট রাখতে হবে। এছাড়া বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নিয়ে আরো গবেষণার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।