হীনভাবে লোভ প্রকাশকারী। খেলো ধরনের। লঘুচিত্ত
মানুষের রূপগুণ, স্বভাবচরিত্র ইত্যাদি প্রকাশ করতে গিয়ে মানুষ প্রায়ই জীবজন্তুদের দ্বারস্থ হয়। হরিণীনয়না, কোকিলকণ্ঠী, সিংহবিক্রম, হস্তীমূর্খ, শশব্যস্ত, বাঁদরামি ইত্যাদি কথা বলতে বা শুনতে আমরা বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এসব কথায়, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আমাদের ইজ্জত বাড়ে আবার ইজ্জত ধূলিসাত্ও হয়। তবু এসব শব্দ আমাদের শব্দভাণ্ডারের অনন্য সম্পদ। ভূয়োদর্শী এবং উপমাসৃষ্টিকারী প্রতিভাবান মানুষ এসব শব্দ সৃষ্টি করেন।
হ্যাংলা শব্দটিও তাঁদের সৃষ্টি। কারো হ্যাংলামি বা হ্যাংলাপনা দেখলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, বিরক্ত লাগে, ঘেন্নাও লাগে। এই হ্যাংলামি ব্যাপারটা তাই সহজে বোঝানো সম্ভব নয়। অভিধানে হ্যাংলা শব্দটির অর্থ দেওয়া আছে যে হীনভাবে লোভ প্রকাশ করে, খেলো ধরনের লোক, লঘুচিত্ত এবং অশোভনকারী লোলুপদৃষ্টি। হ্যাংলামি দেখলেই কুকুরের স্বভাবের কথা মনে পড়ে যায়।
হ্যাংলা শব্দটি আমাদের আঞ্চলিক ভাষা থেকে আসা একটি শব্দ। বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে একটি বিশেষ প্রাণীকে হেঙ্গল নামে ডাকা হয়। হেঙ্গলের এক বিচিত্র স্বভাব আছে। এই স্বভাবটাই হ্যাংলা স্বভাব। হেঙ্গল শব্দের অর্থ হলো কুকুর। হেঙ্গল থেকেই হ্যাংলামি।
সূত্র :বাংলা শব্দের উত্স অভিধান/ফরহাদ খানং