বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ, তার সঙ্গে বাড়ছে সাইবার বুলিংয়ের সংখ্যাও। সারা বিশ্বে প্রায় ৫১ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে, তার মধ্যে ৬০ শতাংশই সাইবার বুলিংয়ের শিকার। তারকা থেকে অপ্রাপ্ত কিশোর-কিশোরী সবাই কমবেশি শিকার হয় সাইবার বুলিংয়ের। করোনাকালীন ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও অনলাইনে শিক্ষাব্যবস্থার কারণে ইন্টারনেট এখন হাতের নাগালে সবার। কিছু মানুষ ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার করছেন। তবে উল্লেখযোগ্য একশ্রেণির মানুষ এর মাধ্যমে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ছেন। তন্মধ্যে সাইবার বুলিং অন্যতম। সাইবার বুলিং বলতে বোঝায় অনলাইনে কোনো মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো কিংবা মানসিক নির্যাতন করা, মৌখিক হুমকির মাধ্যমে অন্যদের ভেতরে ভয় তৈরি করা, অশ্লীল ও অপ্রীতিকর ছবি কিংবা ভিডিও প্রদর্শন, লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্য ইত্যাদি। আবার সামাজিকভাবে হেনস্তা যেমন—কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বয়কট করা, অন্যকে তার সঙ্গে কথা না বলার জন্য আহ্বান করা এবং সামাজিকীকরণ বন্ধ করে দেওয়া, অন্যের নামে মিথ্যা গুজব রটানো ইত্যাদিও সাইবার বুলিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যায় সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিটি। অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটছে। করোনাকালীন তরুণ-তরুণীরা শিকার হচ্ছেন সাইবার বুলিংয়ের। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। বিনিময়ে চাওয়া হচ্ছে অর্থ কিংবা করা হচ্ছে সম্মানহানি।
২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের শিকার ৮২৭ ভিকটিমকে সেবা দেওয়া হয়। অনলাইনে সাহায্য করা হয় ৮ হাজার ৭৭০ জনকে। কিন্তু এর বড় অংশই রয়েছে আইনি সাহায্যের বাইরে। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন শাখার একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। এই পেজের ইনবক্সে সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীরা তাদের সমস্যার কথা লিখে পাঠান। সেটি পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে আইনি সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। এই শাখার হটলাইন নম্বরে সরাসরি ফোন করেও প্রতিকার পায় ভিকটিম। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া অনলাইনে সহিংসতা ও সাইবার হয়রানির শিকার হলে আইনি সহায়তা নেওয়ার জন্য কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সাইবার পুলিশ সেন্টার, হ্যালো সিটি অ্যাপ, রিপোর্ট টু র?্যাব অ্যাপ, ৯৯৯ এবং প্রতিটি ফেসবুক পেজেও অভিযোগ জানানো যায়। শিশুদের সহায়তায় ১০৯৮ নম্বরে, নারী ও শিশুদের সহায়তায় ১০৯ হটলাইনে ফোন করেও সেবা নেওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে।
সাইবার বুলিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বাবা-মাকে লক্ষ রাখতে হবে, তার সন্তান ইন্টারনেটের মাধ্যমে কী করছে। অনলাইনে অন্যকে কিছু বলা ও পোস্ট করার সময় সচেতন থাকতে হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে অন্যের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে হেয় করা যাবে না। ২০১২ সাল থেকে জুন মাসের তৃতীয় শুক্রবার সাইবর বুলিং প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং আইনি সহায়তা নিতে দ্বিধাবোধ হতে বিরত থাকতে হবে।
n লেখক : শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়