সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ ৪ সেপ্টেম্বর। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নানা কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে অতিমারি করোনা, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনেরও রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। তারপরও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী-সমর্থকরা ঘরে ঘরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টায় মরিয়া। প্রার্থী ও সমর্থকরা বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে ডজনেরও বেশি কেন্দ্রীয় নেতা প্রচারণায় যুক্ত রয়েছেন। তারা নানাভাবে হাবিবের পক্ষে কথা বলছেন।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা এখনো সিলেটে আসেননি। তবে তিনি স্থানীয় নেতাদের নিয়ে মাঠ কাঁপিয়ে চলেছেন। অন্যদিকে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় বিএনপির সাবেক সাংসদ শফি আহমেদ চৌধুরী তৃণমূল নেতাদের নিয়ে মাঠে ঘুরছেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে আমার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষ সন্তুষ্ট। তাই তারা আবার আমাকে চায় উন্নয়নের জন্য।
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ করোনায় মারা গেলে গত ২৮ জুলাই এই আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে লকডাউনের মধ্যে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখতে সুপ্রিম কোর্টের ছয় জন আইনজীবী ও নির্বাচনি এলাকার সাত জন ভোটার উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্বাচন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে প্রচারণা বন্ধেরও নির্দেশ দেয় ইসি। গত সোমবার ইসি ৪ সেপ্টেম্বর আসনটিতে ভোট গ্রহণের তারিখ ধার্য করে প্রচারণার সময় বেঁধে দেয় ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত। কিন্তু ইসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রার্থীরা নানা কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শোকের মাস আগস্টকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এরই মধ্যে হাবিবের পক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও কার্যনির্বাহী সদস্য আজিজুস সামাদ ডন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। হাবিবের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে গতকাল বুধবার সিলেট আসেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।
হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নৌকা প্রতীকের পক্ষে একাট্টা। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। উন্নয়নের স্বার্থে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
এদিকে, একসময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থকরা এবার অনেকটা সরব। তাদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আতিক। আতিক বলেন, এবার লাঙ্গলের পক্ষে গণজোয়ার দেখে ঢাকায় বসে থাকতে পারছেন না আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু কোনো কিছুই লাঙ্গলের বিজয় ঠেকাতে পারবে না, বলেন তিনি।