ধনবাড়ীতে দেবে গেছে ভাতকুড়া সেতু

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

ধনবাড়ী উপজেলায় অপরিকল্পিভাবে বালু উত্তোলন থামানোই যাচ্ছে না। এলোপাতাড়ি বালু উত্তোলন করায় বাড়িঘর ও জমিজমা বৈরাণের পেটে যাচ্ছে। একইভাবে গত সোমবার বৈরাণ তীরের ভাতকুড়া সেতুর অংশবিশেষ দেবে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

জানা যায়, পাইস্কা ইউনিয়ন ভেদ করে চলে গেছে বৈরাণ। এ পাড়ে ভাতকুড়া, আর ওপাড়ে দড়িচন্দ্রবাড়ী। সেতু পাড়ি দিয়ে ২০ গ্রামের মানুষ ধনবাড়ী উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। ধনবাড়ী উপজেলা এলজিইডি ২০১৮ সালে এডিবির  টাকায় সেতুটি নির্মাণ করে। পাড়ার রওশন আরা বেগম জানান,  দুই বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড খনন করায় নদী যৌবন ফিরে পায়। কিন্তু দুর্বৃত্তরা রাতদিন বালু তোলায় স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে দুটি পিলার আলগা হয়ে সেতুর মাঝখানে দেবে যায়। একই গ্রামের সমশের আলী জানান, বন্যার পানি বৈরাণকে টইটমু্বর করায় প্রচণ্ড স্রোত চলছে। ফলে পাড় ভেঙে ফসলি জমি আর ঘরবাড়ি নিমজ্জিত হচ্ছে। সেতুতে ওঠার এক পাশের সংযোগ সড়কও নদের পেটে চলে যাচ্ছে। পাইস্কা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষতি আসনের মহিলা সদস্য ফজিলা বেগম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বৈরাণ নদ খনন করে। খনন করা নদীর বুকে ভারী মেশিন বসিয়ে অনবরত বালু তোলায় গভীর খাদের সৃষ্টি হয়। এ খাদের ফলে এখন পাড় ভাঙছে। গুরুত্বপূর্ণ সেতুটিকেও ভাঙন অবস্থায় ফেলছে। যে কোনো সময় সেতুটি নদে মুখ থুবড়ে পড়বে।

এলাকার বাসিন্দা পনির চন্দ্র জানান, সেতু দেবে যাওয়ার পর গার্ডার ও পাটাতনে ফাটল ধরেছে। এক পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। স্রোতে সেতু অনবরত কাঁপছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়রা পারাপার হচ্ছেন।

ধনবাড়ী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন জানান, অপরিকল্পিতভাবে নদ থেকে বালু তোলায় পিলার আলগা হয়ে সেতু দেবে গেছে। সেতুতে ওঠার রাস্তাও ভেঙে গেছে। ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।