মাদরাসা শিক্ষার্থী আরাফাদ (৮) পড়া না পারায় তার শিক্ষক জিকিরুল্লাহ তাকে প্রহার করতে থাকে, এসময় ভয় পেয়ে আরাফাদ মাদরাসার ছাদে উঠে যান। সেখানেও প্রহার করতে থাকায় এক পর্যায়ে ভয়ে শিশুটি ছাদ থেকে লাফ দেন। এঘটনার ৩ দিন পর বুধবার (২৫ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাদরাসা শিক্ষার্থী আরাফাদ (৮)।
আরাফাদ উপজেলার কাশিপুর মারকাজুননূর হাফিজিয়া ও নূরানিয়া মাদরাসায় হাফেজি পড়ছিল। ৮-৯ মাস আগে ওই মাদরাসায় তাকে ভর্তি করা হয়।
আরাফাদের দাদা নুর হোসেন প্যাদা জানান, ১৫ পাড়া পর্যন্ত কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছিল আরাফাদ। ঘটনার দিন রবিবার বিকালে ওই মাদরাসার শিক্ষক জিকিরুল্লাহ আরাফাদকে পড়া মুখস্ত না হওয়ার কারণে মারধর করেন। একপর্যায়ে আরাফাদ দৌঁড়ে মাদরাসার তিনতলার ছাদে উঠে যায়। ওই শিক্ষকও তার পিছনে দৌঁড়ে ছাদে উঠেন। শিক্ষকের প্রহারের ভয়ে আরাফদ পালাতে গিয়ে একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পরে মাথায় ও ডান চোখে গুরুতর জখম হন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা না দিয়ে ওই অবস্থায় মাদরাসায় আটক রাখা হয়। অবস্থা খারাপ দেখে সোমবার সকালে তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন পর্যন্ত ঘটনাটি আরাফাদের বাবা ও মাকে জানানো হয়নি। পরে তার অবস্থা আরও খারাপ হলে বাবা ও মাকে খবর দেওয়া হয়। তারা পটুয়াখালী থেকে ওই দিন আরাফাদকে নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার রাত ৯টায় সে মারা যান। বুধবার পোস্টমর্টেম শেষে রাত ১১টার দিকে লাশ বাউফলের গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হয় এবং বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৭টায় আরাফাদকে দাফন করা হয়।
এ ব্যাপারে ওই মাদরাসার শিক্ষক জিকিরুল্লাহ সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার রং নম্বর বলে ফোন কেটে দেন। এরপর আর ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে হাফেজ জিকিরুল্লাহ পলাতক রয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, এসআই রুহুল আমিনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আরাফাদের অভিভাবকরা এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করলে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসজেড