চট্টগ্রামে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের মামলা পুনঃ তদন্তের নির্দেশ

চট্টগ্রামে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মাধ্যমে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অভিযোগপত্রের ব্যাপারে মামলার বাদী এস এম জসিম উদ্দীনের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মোহাম্মদ রেজার আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের তত্কালীন এসআই টেকনাফে         সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি লিয়াকত আলী, কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তত্কালীন এসআই নজরুল ও এসআই হান্নান, এস এম সাহাবুদ্দিন, বিষ্ণুপদ পালিত, কাজল কান্তি বৈদ্য ও জিয়াউর রহমান।

মামলার এজাহারে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা এলাকায় কারখানায় চুরির ঘটনায় মালিক এস এম জসিম উদ্দীন আদালতে একটি মামলা করেন। ঐ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ডিবির তত্কালীন এসআই লিয়াকত আলী। ২০১৪ সালের ১৪ জুন তদন্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বাদী জসিম উদ্দীনকে নিজের অফিসে ডেকে এনে সঠিকভাবে তদন্তের জন্য তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরে আবার জসিম উদ্দীনকে অফিসে ডেকে নিয়ে আসামিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য চাপ দেন। জসিম উদ্দীন রাজি না হয়ে যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখন কয়েক জন পুলিশ সদস্য মিলে তাকে আটক করে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। চোখ খোলার পর দেখেন তিনি পতেঙ্গা থানায় আছেন। সেখানে কয়েক জন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। পরে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহ করে তাদের হাতে দেন জসিম উদ্দীন। টাকা দেওয়ার পরও জসিম উদ্দীনকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার একটি ভুয়া পরোয়ানার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস জেল খেটে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। 

এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়ে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন করেছিলেন। আদালত তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনারকে নির্দেশ দেন। অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয় সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের তত্কালীন এসআই সন্তোষ কুমার, পতেঙ্গা থানার তত্কালীন এসআই কামরুল, সদরঘাট থানার তত্কালীন এসআই তালাত মাহমুদ, পতেঙ্গা থানার তত্কালীন ওসি প্রণব চৌধুরী, সদরঘাট থানার তত্কালীন ওসি মর্জিনা বেগম এবং গোয়েন্দা পুলিশের তত্কালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তারের নাম।