নীলফামারীর অধিকাংশ লেভেলক্রসিং অরক্ষিত

প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর অধিকাংশ লেভেলক্রসিং অরক্ষিত। অনেক স্থানে নেই গেট ও গেটম্যান। ফলে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া এসব লেভেলক্রসিংয়ে প্রায়ই ঘটছে হতাহতের ঘটনা। স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত এক বছরে নীলফামারীতে রেল দুর্ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় ২০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুফাঁদে পরিণত অরক্ষিত লেভেলক্রসিংগুলোয় প্রতিরোধের কোনো উদ্যোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে গেট ও গেটম্যান দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, এক বছরে এ রেলপথের চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত যতগুলো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তার ৯০ ভাগই অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ের কারণে। স্থানীয়দের দাবি, লেভেলক্রসিং অরক্ষিত এবং গেট ও গেটম্যান না থাকার কারণেই ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যদিকে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণেই বাড়ছে এসব দুর্ঘটনা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর ৫৯ কিলোমিটার রেলপথ। প্রতিদিন এ পথে চলাচল করে একটি লোকাল-মেইল ট্রেনসহ ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন। পাশাপাশি চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ চালু হওয়ায় এ পথে বেড়েছে পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যাও। এই পথে মোট লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৩৬টি। এর মধ্যে ২৫টি ক্রসিংয়েই নেই কোনো গেটম্যান। এসব লেভেলক্রসিংয়ের পাশেই রয়েছে স্কুল হাট-বাজার ও গ্রামের প্রধান রাস্তা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কাজীরহাটে অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেন-ট্রাকের দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রাক চালক ঘটনাস্থলে নিহত হয়। আহত হয় দুই জন। এ ছাড়া খয়রাতনগরের রেলস্টেশনের সন্নিকটের লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় গত দুবছরে অন্তত পাঁচ/ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে উত্তরা ইপিজেডের মোটরসাইকেল আরোহী তিন জন শ্রমিক মারা গেছে। এছাড়া সম্প্রতি ওয়াপদা মোড় সংলগ্ন বাইপাসে লেভেল ক্রসিংয়ে পুলিশের সহায়তা রক্ষা হয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বিশ্বাস বলেন, অসচেতনভাবে রেললাইন পার হওয়ার সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। মানুষ সচেতন হলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমে আসবে। এ লক্ষ্যে রেলপথের লেভেল ক্রসিংয়ে ও বিভিন্ন স্টেশনে সচেতনতামূলক সভা করছি, যাতে সাধারণ মানুষ লেভেলক্রসিং পারাপারে সতর্ক হয়। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সুলতান মৃধা জানান, জেলার ৩৬টি লেভেলক্রসিংয়ের ১১টিতে গেটম্যান রয়েছে। জনবল সংকট থাকায় বাকিগুলোতে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।