ঘোড়াঘাটের পালশা কমিউনিটি সেন্টার
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
ঘোড়াঘাটে পালশা ইউনিয়ন কমিউনিটি সেন্টারটি দ্বিতীয় দফা নির্মাণের ১৪ মাস যেতে না যেতেই ফাটল ধরেছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মরত জনবলকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যেতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পালশা গ্রামে প্রাক্তন ইউপি সদস্য মুশিউর রহমান মুশি ইউনিয়ন কমিউনিটি সেন্টারটি নির্মাণের জন্য পাঁচ শতক জমি দান করেন। ২০০১ সালের ১৮ জানুয়ারি কমিউনিটি সেন্টারটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে দিনাজপুর জেলা হেল্থ ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর। সর্বোচ্চ দরপত্র দাতা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান একই সালের মার্চ মাসে কার্যাদেশপ্রাপ্ত হয়ে নির্মাণকাজ শুরু করে। ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬০ টাকা ব্যায়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে কমিউনিটি সেন্টারটির বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি জেলা হেল্থ ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরকে অবগত করা হলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ মর্মে মতামত দেওয়া হয়। ফলে জেলা হেল্থ ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর পূর্বের নির্মিত ভবনটি ভেঙে ফেলে ২০১৮ সালে পুনঃদরপত্র আহ্বান করে। ২০১৯ সালের জুন মাসে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ভবনটি প্রায় ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃনির্মাণ শেষে ভবনের চাবি হস্তান্তর করে। ২য় বার নির্মাণের ১৪ মাস যেতে না যেতেই একইভাবে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। পাশাপাশি দুটি কক্ষ মূল মেঝে থেকে নিচে দেবে গেছে।
সরজমিনে গিয়ে কর্তব্যরত কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার মো. ওবায়দুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তার নিকট ভবনটি যখন হস্তান্তর করা হয় তখন তিনি ঘর খুলে দেখেন বিভিন্ন স্থানে ফাটল। বিষয়টি তাত্ক্ষণিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অবগত করা হলে তারা তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে রাতের আঁধারে সিমেন্ট দিয়ে ঐসব ফাটল মুছে দিয়ে চাবি দিয়ে যান। ওবায়দুল হক আরো জানান, জীবনের ভয়ে তিনি তার অফিস কক্ষে না বসে বারান্দায় বসে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। কমিউনিটি সেন্টারের হেল্থ অ্যাসিস্ট্যান্ট আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, তার কক্ষটিতে তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসেন। মাথার ওপরে দেওয়ালে অনেক ফাটল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. নূর নেওয়াজ আহমেদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে দুই দিন কথা হলে তিনি জানান, ভবনটি নির্মাণের টেন্ডার জেলা হেল্থ ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে করা হয়েছে। কাজের দেখাশোনা তারা নিজেরাই করেছে, কাজের যাবতীয় কাগজপত্র তাদের কাছেই রয়েছে। তাকে কোনো পেপারস দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তবে আমি ঘটনাটি শুনে দিনাজপুর জেলা হেলথ ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিনকে অবগত করেছি এবং এক সেট কাগজপত্র চেয়েছি কিন্তু এখনও তিনি দেননি। প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুইবারে নির্মিত ভবনটিতে ফাটল ধরার ব্যাপারে হেলথ জেলা ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন বলেন, অল্প জায়গায় কমিউনিটি সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। ধারনা করছি এর দুইপাশে পুকুর থাকায় দেবে গিয়ে ফাটল ধরতে পারে। ভবনটি দেখতে যাবো। পরে ফাটলের প্রকৃত কারণ বোঝা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিউল আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। কোনো অভিযোগও পাইনি।