‘আমি যোগ্যতার মূল্যায়ন করি’

 

আমাদের দেশে সামিনা চৌধুরী শুদ্ধ সংগীতচর্চার অন্যতম এক প্রতীক। গানের আলোচনায় বা প্রজন্মের বেড়ে ওঠায় সবসময় তরুণীদের একটু ভালো কণ্ঠ শুনলেই অগ্রজরা আশীর্বাদ করে বলেন, ‘বড় হয়ে সামিনা চৌধুরীর মতো শিল্পী হবি’। আমাদের সংগীত অঙ্গনের তেমনই এক বরেণ্য নাম সামিনা চৌধুরী। আজ শিল্পীর জন্মদিন। জন্মদিনে ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। কথা বললেন নিজের কাজ ও পরিকল্পনা নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

আপনার বর্তমান কাজ ও ইউটিউব চ্যানেল চালু প্রসঙ্গে জানতে চাই—

আজ (গতকাল) সুচিতা নাহিদ সালামের লেখা ও সাজ্জাদ কবিরের মিউজিক ও কম্পোজিশনে ‘ছোঁয়া কী যায়’ শিরোনামের নতুন একটি গানে কণ্ঠ দেবো। এছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন গান প্রস্তুত করেছি। কিন্তু যখনই ভাবছি ভিডিও নির্মাণ করব তখনই লকডাউন চলে আসছে। তবে এবার সব ঠিক থাকলে ৪-৫টি গান শেষ করার ইচ্ছে আছে। আর আমার চ্যানেলটির সবে যাত্রা হলো। যেহেতু আমি একা এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলো কম বুঝি সেহেতু একটু করে শিখছি আর কাজ করছি।

জন্মদিনে বিশেষ কী করছেন?

এই দিনটি তো প্রত্যেক মানুষের জন্যই বিশেষ। আমাদের অনুষ্ঠান করার প্রথা না থাকলেও প্রতিবছরই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েই যায়। তবে এবার তেমন কিছু চাইলেও করতে পারছি না। অনেক ইচ্ছে ছিল জন্মদিনে নতুন একটি গান রিলিজ দেবো, কিন্তু যখনই একটু খুশি মনে থাকি তখনই একটি করে দুঃসংবাদ পাই। একের পর এক এমন সংবাদ শুনে কোনো অনুষ্ঠান বা গান রিলিজ দিতেও বিবেক বাঁধা দেয়!

এখনকার গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেলেও ক’দিন পরই হারিয়ে যাচ্ছে। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

এখন তো সবাই অস্থির হয়ে গেছে। এছাড়া মানুষের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় মন দিয়ে গান শোনার সময়ও কারো নেই। পাশাপাশি সুরে মাঝে মায়াটাও কমে গেছে। আরেকটি কারণ হচ্ছে, একটি গানের ভিডিও ভালো হলে পরের গানটি ভালো কিন্তু ভিডিওর মান খারাপ হলে মানুষ দেখে না। না দেখতে দেখতেই না শোনা হয়ে যায়।

অনেকেই বলেন মিউজিক ভিডিও গানের স্বকীয়তা নষ্ট করছে। আপনি কী বলবেন?

এই বিষয়টিতে আমি একমত। তবে আমি নিজেও ভালো একটি ভিডিও তৈরি পক্ষে। কিন্তু গানের চেয়ে যদি ভিডিওতে বেশি জোর দেওয়া হয় তাহলে সেটা দুঃখজনক।

উন্মক্ত মাধ্যম ও ভিউ বাণিজ্যের কারণে অনেক মানহীন গান ভাইরাল বনে যাচ্ছে। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

যত প্রতিষ্ঠিতই হই না কেন, এই বিষয়টিতে আমাদের হাত নেই। হুজুগে কেউ মানহীন কাজ দেখলে তো কিছু বলার থাকে না। তবে দেশের সংস্কৃতি রক্ষার্থে এ ধরনের কাজ এখনই বন্ধ করতে হবে। কারণ এমন কাজ বাইরের দেশের মানুষের কাছে আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

নতুন অনেকেই স্বজনপ্রীতি নিয়ে অভিযোগ করেন। আদৌ কী ইন্ডাস্ট্রিতে এই চর্চা রয়েছে?

স্বজনপ্রীতির চর্চা শুধু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে না, সারাবিশ্বেই রয়েছে। আমিও শুরুতে স্বজনপ্রীতির শিকার হয়েছি। আমাকেও অনেক কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমি সিনিয়র হলেও আমার ভেতর কখনোই স্বজনপ্রীতি ব্যাপারটি কাজ করে না। আমি যোগ্যতার মূল্যায়ন করি। তবে আমার মনে হয়, ব্যক্তিত্ব থাকলে যে কেউ ঠিক বেরিয়ে আসবে। এর জন্য নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ কী ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছে?

এখন তো গানকে অনেকেই পেশা হিসেবে নিয়েছে এবং ভালোই করছে। আবার অনেকেই আছে, যারা ভালো গাইলেও স্বজনপ্রীতির শিকার হয়ে ঝরে যাচ্ছে। অন্যদিকে যারা নেচে-গেয়ে নিজেদের জাহির করতে পারছে তারা গান গাইতে না পারলেও অনুষ্ঠান করছে। তারা কিন্তু এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। এদের কারণে ভালো গাইতে পারা শিল্পীরাও সুযোগ পাচ্ছে না।

শিল্পীদের সম্মানীর বিষয়েও তো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শোনা যায়...

এই করোনাকালে তো অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এটা যারা অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন তাদের বুঝতে হবে। কারণ অনলাইন অনুষ্ঠান করলেও তো শিল্পী প্রস্তুতি নিচ্ছে, সময় দিচ্ছে। তাকে তো এর সম্মানটাও দিতে হবে।

শিল্পীদের এককভাবে নিজেস্ব চ্যানেলে গান রিলিজের বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

এটা নিঃসন্দেহে ভালো একটি দিক। নিজের কাজ নিজের চ্যানেলে রিলিজ দাও, লাভ-ক্ষতির হিসেবেও নিজে করো। এটাকে আমি স্বাগত জানাই।

সংগীতজীবনের সেরা প্রাপ্তি কোনটাকে বলবেন?

আমার জীবনের সবই প্রাপ্তির। আল্লাহ আমাকে সম্মানের সঙ্গে বাঁচিয়ে রেখেছেন, অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা দিয়েছেন, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!