কাবুল বিমানবন্দরে হামলা চালানো ‘আইএস-কে’ কীভাবে তৈরি হয়েছে

বিবিসি

আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট অব খোরাসান (আইএস-কে)। এটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটেরই শাখা। আইএসের সঙ্গে খোরাসান শব্দটি এসেছে আধুনিক আফগানিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ে যে অঞ্চল, তার প্রাচীন নাম থেকে।

আইএস-কে গোষ্ঠীর জন্ম ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে। মূলত পাকিস্তানি তালেবান এবং আফগান তালেবানের সাবেক সদস্যদের নিয়ে এই গোষ্ঠী তৈরি হয়। আফগানিস্তানের তালেবানের চেয়ে আইএসকেপি বহুগুণ বেশি কট্টরপন্থি। তারা আফগান তালেবানকে শত্রু বলে মনে করে। ইসলামি বিধানের তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মনে করে যে, ‘মুরতাদ’ হিসেবে তালেবানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো ‘জায়েজ’। গত বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগান তালেবানের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি হয়, আইএস-কে তার নিন্দা জানায় এবং বলে যে তারা আফগানিস্তানে তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে। এই গোষ্ঠী একই সঙ্গে তালেবানের আফগানিস্তান দখলকে নাকচ করে দিয়ে দাবি করে যে, এক গোপন চুক্তির অংশ হিসেবে আমেরিকানরা আফগানিস্তানকে তালেবানের হাতে তুলে দিয়েছে।

২০১৯ সালে আইএস-কে সামরিকভাবে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হয় এবং ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। তবে এর পরও আইএস-কে তার শক্তি ফিরে পায় এবং কাতারে তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলার সময়টিতে আফগানিস্তানে বেশ কয়েকটি হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে। বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফ্র্যাংক গার্ডনার জানান, শুধু গত বছরই আইএস-কে আফগানিস্তানে ২৪টি হামলা পরিচালনা করেছে। তারা ২০১৮ সালে ইরানের অভ্যন্তরে একটি হামলা চালায়।

সাংগঠনিক দিক থেকে আইএস-কে শুরুতে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত হলেও ২০১৯ সালের মে মাসে ইসলামিক স্টেট ‘পাকিস্তান প্রদেশ’ নামে স্বতন্ত্র একটি গোষ্ঠীর নাম ঘোষণা করে। আইএস-কে যাদের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনা করেছে তারা হলো আফগান সামরিক বাহিনী, আফগান রাজনীতিক, তালেবান, শিয়া মুসলমান ও শিখসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী এবং সে দেশে কর্মরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও আর ত্রাণ সংস্থার কর্মী।