প্রয়োজন প্রাকৃতিক অক্সিজেন

নাজমুল হক

বিজ্ঞান অক্সিজেন অবিষ্কার করতে পারেনি, পেরেছে পৃথকভাবে চিকিত্সায় ব্যবহার করতে। যা ছাড়া একটি মুহূর্তও মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। করোনাকালে মানুষ অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পেরেছে; বিশেষ করে করোনায় আক্রান্ত রোগী ও তাঁর স্বজনরা। অক্সিজেনের উত্স হলো বৃক্ষ। বাতাস ছাড়া মানুষ সর্বোচ্চ তিন মিনিট টিকে থাকতে পারে পৃথিবীতে। দেশের মোট ভূখণ্ডের কমপক্ষে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা দরকার। অথচ আছে মাত্র ১৭.৫ ভাগ, তাও দিন দিন কমে আসছে। বৃক্ষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আবহাওয়ার আচরণ বদলে গেছে।

মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে বাতাসের অতি প্রয়োজনীয় অংশ অক্সিজেনের ঘাটতি পাঁচ মিনিট স্থায়ী হলে মস্তিষ্কের কোষগুলো দ্রুত মারা যেতে শুরু করে। এ সময় মানুষ অচেতন হয়ে পড়ে এবং তার চোখের তারারন্ধ্র (পিউপিল) আলোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ প্রতিদিন ১১ হাজার লিটার বাতাস নিশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে, যা সে বৃক্ষ থেকে বিনামূল্যেই পেয়ে থাকে। কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই পৃথিবীর ৭০০ কোটির বেশি মানুষ এই অক্সিজেন প্রতিনিয়ত গ্রহণ করছে। অথচ মানুষই চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে নিধন করেছে একের পর এক বৃক্ষ। উদ্ভিদ বিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্যান্থম ফরেস্ট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ অন্তত ১৮ জন মানুষের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন উত্পাদন করতে পারে। কোনোরূপ মূল্য পরিশোধ ছাড়াই মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত এভাবেই আমরা তা গ্রহণ করে যাব। ডুবুরি, পর্বতারোহী ও মুমূর্ষু রোগীর চিকিত্সায় অক্সিজেনের সিলিন্ডার বাণিজ্যিকভাবে বেচাকেনা হয়। অক্সিজেনভর্তি একটি সিলিন্ডারের দাম ১০-১২ হাজার টাকা। সেই হিসেবে মানুষ প্রতিদিনই হাজার হাজার টাকার অক্সিজেন প্রকৃতি থেকেই বিনামূল্যে পেয়ে যাচ্ছে।

দেশে করোনাকালীন অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা মানুষ অনুভব করেছে। সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটে মানুষ মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করেছে। অথচ দেশে কিন্তু অক্সিজেনের ঘাটতি নেই। আছে প্রয়োগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। মানুষ স্বাভাবিক সময়ে প্রকৃতি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে, আর শরীরে রোগের কারণে অক্সিজেন ঘাটতি হলে কৃত্রিমভাবে গ্রহণ করে। কিন্তু সেই ব্যবস্থাপনা ও মজুদ রাখতে হবে।

জীবন, পরিবেশ-প্রকৃতি বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাছ লাগাতে উত্সাহিত করা যেতে পারে। রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বৃক্ষ রোপণের জন্য উত্সাহিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সমস্ত অফিসের শাখাগুলোতে দিতে হবে বাধ্যতামূলক বৃক্ষ রোপণের নির্দেশনা। জায়গা না থাকলে টবে হলেও গাছ লাগাতে হবে। শহরকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে পরিকল্পিতভাবে। শহরের বাড়ির পরিকল্পনা পাশের ক্ষেত্রেও বৃক্ষ রোপণের বিষয়টি যুক্ত রাখতে হবে। প্রয়োজনে বৃক্ষ রোপণ দিবস করে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে বৃক্ষ রোপণ করলে আমাদের অক্সিজেন ভাণ্ডার আরো বিশুদ্ধ, নির্মল ও সমৃদ্ধ হবে।

সাতক্ষীরা