আনন্দ পট : কুমিরের মমি

 

মমির কথা বললেই মনে হবে মিশর দেশটির কথা। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে নীল নদের তীরে গড়ে উঠেছিল মিশরীয় সভ্যতা। তত্কালে যারা মিশরকে শাসন করত তাদেরকে বলা হতো ‘ফারাও’। মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল—মৃত্যুর পরেও ফারাওরাই দেশ শাসন করবে। তাই ফারাওদের দেহকে মমি করে সংরক্ষণ করে রাখত তারা। মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণীকেও মমি করে রাখা হতো। গরু, কুকুর, ঘোড়া, মাছ, বিড়াল, পাখি এবং কুমিরের মমি প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করেছেন।

কুমিরের মমির কথাই বলা যাক। তত্কালীন মিশরে যারা নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করত, কুমির তাদের কাছে ছিল অতি হিংস্র একটি প্রাণী! কুমিরকে তারা ভীষণ ভয় পেত। মিশরীয়রা বিশ্বাস করত যে, কুমির হচ্ছে নীল নদের জলে বসবাসরত হিংস্র এক দেবতা। যার নাম সোবেক। যে নাকি নীল নদের অতলে কুমিরের রূপ ধারণ করে চলাফেরা করে। তখন মিশরীয়রা কুমিরের হাত থেকে বাঁচার জন্য কুমিরের পূজা করতেও ছাড়েনি। তারা মৃত কুমিরকে মমি করে পূজা করত। আর সেইসব কুমিরের মমিগুলো তৈরি করত নীল নদের তীরবর্তী মন্দিরের পুরোহিতেরা। তারা কুমিরের মমি বিক্রি করে বেশ আয়ও করত।

মিশরের সমাধি ভবন খুঁড়ে পনেরো ফুট লম্বা এক কুমিরের মমি আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা!

আহরাফ রবিন