নেত্রকোনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে আইন বহির্ভূতভাবে সাজা দেওয়ায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জেলার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া। লিখিত বক্তব্যে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন মর্মে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, সুলতানা রাজিয়ার কাছ থেকে পাওয়া লিখিত বক্তব্যের অনুলিপি হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে আটপাড়ায় গত ১ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই শিশুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে শিশুদের গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও টঙ্গী পৃথক দুই উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিশু দুজনেরই বয়স ১৫ বছর। আইনজীবীরা জানান, ঐ দণ্ডাদেশ দেশের প্রচলিত শিশু আইন এবং উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থি। শিশু সম্পর্কিত সব অপরাধের বিচার শুধু আইনে প্রতিষ্ঠিত আদালতেই হবে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই। এ নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরের দিন এই প্রতিবেদন যুক্ত করে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুকে তাত্ক্ষণিক মুক্তি দিতে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চেয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট ঐ দুই শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন। এছাড়া আদেশের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার (সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র) মোহাম্মদ সাইফুর রহমানকে বলেন আদালত। তবে এর আগেই নেত্রকোনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ শিশুদের আটকাদেশ বাতিল করে খালাস দেন (রদ রহিত) একই সঙ্গে সুলতানা রাজিয়ার কাছে এ নিয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
এছাড়া ৫ আগস্ট রিটের শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ ঐ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার ব্যাখ্যার কপি ২৬ আগস্টের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।