ঘিওরে দুর্ভোগে ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দা
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ আর নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে মানিকগঞ্জের জনগুরুত্বপূর্ণ ঘিওর-খলশী সড়কের কুস্তা এলাকায়। এই সড়কটি দিয়ে দুই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতে প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি । সড়কটি ভাঙনের কারণে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সড়কটি মেরামত এবং ভাঙন থেকে রক্ষায় স্থায়ী সমাধান না করলে বন্ধ হয়ে যাবে এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে আশপাশের কমপক্ষে ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
স্থানীয়রা বলেন, গত বছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে এই সড়কের ২৫০ মিটার। এরপর থেকেই সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় সব ধরনের যানবাহন দুই পাড়ে থাকতে বাধ্য হয়। ঐ ভাঙা স্থান দিয়ে হেঁটে পার হয়ে যানবাহনে চড়তে হয় ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, জিও ব্যাগ ফেলাসহ লুপ কাটিংয়ের কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে মানুষের ভোগান্তি নিরসন হবে দ্রুতই।
জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার ঘিওর, পয়লা এবং পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর, খলসি, চরকাটারী ও বাঘুটিয়া এই ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই সড়ক ব্যবহার করে উপজেলা, জেলা এবং রাজধানীতে যাতায়াত করে থাকে। ২০১৪ সালের পর থেকে প্রতি বছরই ঘিওর-দৌলতপুর সড়কের কুস্তা গ্রামের কিছু অংশ কালীগঙ্গা নদীতে ধসে পড়ে। গত সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কার না করায় এই দুই উপজেলার মধ্যকার সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। এ দুটি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা কোনো যান্ত্রিক যানবাহন ব্যবহার করতে না পারায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। জেলা সদর ও রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে একমাত্র সড়ক এটি। এ সড়ক দিয়ে কৃষকের উত্পাদিত কৃষি পণ্য হাটবাজারে নিতে এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর কাজে বিঘ্ন হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে।
ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, এলজিইডির আওতায় ঘিওর-দৌলতপুর উপজেলার এ সড়কের কুস্তা এলাকায় সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এলজিইডি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। প্রতি বছরই সংস্কার ও ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও টেকসই ও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ঘিওর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, এখানে স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় প্রকল্পের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার কাজ চলাকালীন বর্ষার পানি আসায় কাজের বিঘ্ন ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় এমপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাজ্জাকুর রহমান জানান, নদীতে বাঁধ না দিলে কোনোভাবেই সড়কটি রক্ষা করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্েডর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ভাঙন রোধে তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে নদী পুনঃখনন করা হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি আর অবিরাম বর্ষণে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙন রোধে ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলাসহ লুপ কাটিংয়ের কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে মানুষের ভোগান্তি নিরসন হবে। স্থীয়ভাবে ভাঙন রোধে বড় প্রকল্পের বিকল্প নেই।