মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ঘাটতি মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বয় ও অংশীদারিত্ব

দেশে মানসম্পন্ন মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে, ফলে মানুষ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে সর্বোচ্চ অধিকার ভোগ করতে পারছে না। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলা ও চিকিত্সায় প্রয়োজনের তুলনায় সম্পদের বরাদ্দ অপ্রতুল। ব্র্যাক মনে করে, বর্তমানে চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলো সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে এবং সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক তার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কৌশল উদ্বোধন করে। অনুষ্ঠানের আয়োজকও ব্র্যাক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এজেন্ডার মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতি সাধন বর্তমানে অন্যতম। দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে মাল্টিসেক্টরাল পন্থায় কাজ করতে পারে। মানসিকভাবে সুস্থ জাতি, মানসিকভাবে সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, বাংলাদেশে শতকরা ১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ মানসিক স্বাস্থ্যকে জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে বিশ্বাস করতেন এবং মনে করতেন বর্তমানে এ সংক্রান্ত সেবা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

ব্র্যাকের মানসিক স্বাস্থ্য মডেলটির পাইলট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ডা. মোর্শেদা চৌধুরী বলেন, ব্র্যাকের এই কৌশল স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ তখনই প্রত্যাশিত ফলাফল আনবে যখন সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি)-এর লাইন ডিরেক্টর ডা. রোবেদ আমিন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট এর পরামর্শক এবং অক্সফোর্ডের কনসাল্টিং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. নার্গিস ইসলাম।