লাভজনক করতে নয়া পরিকল্পনা

শ্যামপুর সুগার মিল

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিলে নতুন করে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে বেশ কিছু পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের নেওয়া পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে উত্পাদিত আলু দিয়েই গড়ে তোলা যাবে পটেটো চিপস তৈরির কারখানা, ছোট আকারের চকলেট তৈরির কারখানা, ভুট্টা ব্যবহার করে হাঁস-মুরগি, মাছ ও গবাদি পশুর খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং এই অঞ্চলের উত্পাদিত হাঁড়িভাঙা আমের জুস তৈরির কারখানা। এছাড়া এই এলাকায় আলুর ব্যাপক চাষ হওয়ায় তা সংরক্ষণে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা দরকার। এই অঞ্চলের পানির হার্ডনেস অনেক কম হওয়ায় মিনারেল ওয়াটার প্ল্যান্ট নির্মাণ এবং মিলের আয় বাড়াতে গোডাউন ও দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনার চিন্তা কর্তৃপক্ষের। ফিলিং স্টেশন ও এলপিজি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এবং বর্তমান সময়ে সবচেয়ে লাভজনক বিনোদনকেন্দ্র ও রিসোর্ট নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে।

শ্যামপুর চিনিকল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান জানান, মিলের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ। এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে মিলের মাড়াই কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশের চিনিকলগুলোতে উত্পাদিত খাঁটি ও অর্গানিক চিনির চাহিদা ব্যাপকভাবে রয়েছে বিদেশে। বর্তমান চিনিকলের মেশিনগুলোর উত্পাদনক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণ জরুরি। তা না হলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চিনিশিল্প কারখানা। জনগণের জীবিকা বন্ধ না করে ভর্তুকি দিয়ে হলেও সুগারমিলগুলো চালু করার দাবি জানান শ্রমিক-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা। শ্যামপুর সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মো. আহসান হাবিব জানান, ‘লোকসানে থাকা মিলকে লাভজনক করতে আমরা বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। এতে মিলটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।’ মিলটি চালু করতে এসব পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে ১১১ একর জমির ওপর মিলটি স্থাপিত হয়। গড়ে ওঠার তিন বছরের মধ্যে উত্পাদন শুরু হওয়ার পর লাভে থাকলেও ২০০০ সালের পর থেকে টানা লোকসানের মুখে পড়ে মিলটি। গত ১০ বছরে মাড়াই মৌসুমে প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা লোকসানের পর শিল্প, বাণিজ্য, অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি মিলটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করে। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে ২০২০-২১ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন।