রূপগঞ্জে বিলে লাল শাপলার হাসি

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপ ফুটে উঠেছে লাল শাপলায়। শহরের চার দেওয়ালে বন্দি থাকা মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে ছুটে আসছে মনোমুগ্ধকর এ শাপলা বিলে। বিশেষ করে ছুটির দিনে মানুষ ভিড় করে গ্রামীণ পরিবেশে বিলের পানিতে ফুটে থাকা এ জলজ ফুলের শোভা দেখার জন্য। লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য বিলিয়ে দিচ্ছে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দা মধ্যপাড়া এলাকার শাপলা বিল। সকালের সূর্যের আলোতে লাল শাপলার ঝলমলে উজ্জ্বলতা দেখলে মন ভরে যায়। সবুজের জমিনে লাল শাপলার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই বিলে। পাহাড়ের মতো ছোট ছোট টিলার ওপর দিয়ে রাস্তা। এখানে আগাছা আর লতাগুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে আছে লাল শাপলা। সূর্যের সোনালি আভা শাপলাপাতার ফাঁকে ফাঁকে পানিতে প্রতিফলিত হয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিলের সৌন্দর্য। নৌকা কিংবা হাঁটু পানি মাড়িয়ে বিলের ভেতর ঢুকলে মনে হবে বাতাসের তালে তালে এপাশ-ওপাশ দুলতে দুলতে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে শাপলারা। সে হাসিতে বিল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দধারা। ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দা মধ্যপাড়া এলাকাটি শাপলার রাজত্বের কারণে সেটি এখন শাপলা বিল নামেই বেশি পরিচিত। প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে প্রশান্তি বিলানো ছাড়াও এই বিল ও তার শাপলা স্থানীয়দের অন্নেরও জোগান দেয়। ২০০ একর জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া লাল শাপলা ফুল যারা দেখতে আসেন তাদের জন্য রয়েছে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা। অল্প ভাড়ায় তাতে চড়ে কাটানো যায় সময়।

স্থানীয়দের অনেকে জীবিকার জন্য বছরের একটা বড় সময় বিলের মাছ ও শাপলার ওপর নির্ভরশীল। এলাকার এক গৃহিণী বলেন, লাল শাপলার কদর বেশি, এটি রান্না করার পরও রক্তের মতো লাল থাকে। তবে রান্নার আগে তা সেদ্ধ করে নিতে হয়। এটি দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও খুব সুস্বাদু। তিনি আরো বলেন, আগে বিলে প্রচুর শাপলা জন্মালেও এখন বিল ভরাট হতে থাকায় পানি কমে যাচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে কমে যাচ্ছে শাপলা। বিলের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণেও শাপলা কমে যাচ্ছে। ঐ এলাকার এক ব্যক্তি  বলেন, তিনি প্রতিদিন তার ডিঙি নৌকা দিয়ে মাছ ধরেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ বড়শি পেতে কই, খলিশা, টাকি, শোল, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেন। এই মাছ বিক্রি করে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় তার। একজন কৃষক জানান, তিনি শুকনো মৌসুমে জমি চাষ করেন, আর বর্ষা মৌসুমে বিলের শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালান। তার মতো শতাধিক পরিবার এভাবে টিকে আছে। তিনি আরো বলেন, ১৫ থেকে ২০টি শাপলার একটি আঁটি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। শাপলা বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় হাজার টাকা আয় হয় তার।