খুলনায় ভৈরব নদের ওপর ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি

জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নে ভৈরব নদের ওপর নির্মিত ‘তালতলা ব্রিজ’টি এখন মানুষের গলার কাঁটা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ ব্রিজ হয়েছে, কিন্তু ব্রিজে যানবাহন ওঠানামা ও জনসাধারণ চলাচলে সংযোগ সড়ক নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রূপসা উপজেলার ভৈরব নদের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ‘তালতলা ব্রিজ’, যার মাধ্যমে উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন ও টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নবাসীর অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হয়। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের পর দীর্ঘদিন চলে যাওয়ার পরও ব্রিজের দুপাশের রাস্তা না হওয়ায় সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিল তৃলেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, ‘ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোডের জমি নিয়ে জটিলতার কারণে আমরা কাজ করতে পারছি না। জমি অধিগ্রহণ নিয়েও কিছুটা জটিলতা রয়েছে। এছাড়া বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃৃপক্ষ জানায়, নকশা অনুযায়ী রাস্তা করলে কোনো ভারী যানবাহন ব্রিজে ওঠানামা করতে পারবে না। এমনকি ইজিবাইকও ব্রিজের ওপর উঠতে মারাত্মক সমস্যা হবে। ব্রিজ থেকে নেমেই চাঁদপুর অংশের যে বাঁক রয়েছে, সেটাই মূলত সমস্যার কারণ। এজন্য ব্রিজের রাস্তা নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে ব্রিজ নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও রাস্তার কাজ করা হচ্ছে না।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ব্রিজ নির্মাণের ফলে ঘাটভোগ ইউনিয়ন ও টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজের দুই পাশের রাস্তা নির্মাণ করেনি। ব্রিজের ঘাটভোগ ইউনিয়নের নারখেলী চাঁদপুর অংশের রাস্তা নির্মাণে জটিলতা সৃষ্টির কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, ‘তালতলা-আলাইপুর-শেখপুরা এফআরবি (পালঘাট) সড়কে ১ হাজার মিটার চেইনেজ ৪০ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ (স্থানীয়ভাবে তালতলা ব্রিজ নামে পরিচিত) নির্মাণের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ পেয়েছিল যৌথভাবে মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স ও মেসার্স কামরুল এন্টারপ্রাইজ। ব্রিজটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর ইতিমধ্যে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন ঠিকাদারেরা। তবে অসম্পূর্ণ রয়েছে ব্রিজের দুই পাশের অ্যাপ্রোচ রোডের ২০০ মিটারের কাজ, যা চওড়া হওয়ার কথা ২৪ ফুট।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিনয় হালদার জানান, ব্রিজের রাস্তা নির্মাণে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। কয়েক দফা রাস্তা অধিগ্রহণের জন্য জমি মাপামাপিও হয়েছে।

রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ব্রিজের নারিখেলী চাঁদপুর অংশের রাস্তার বাঁক সংশোধন এবং ব্রিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ১২৫ শতক জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফাইলটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে রয়েছে। এটার অনুমোদন হলে ১৭-১৮ লাখ টাকা ব্যয় বাড়তে পারে। আর যদি অনুমোদন না হয়, তাহলে নকশা অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে বলা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, বর্ষা মৌসুমের জন্য তালতলা ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাছ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হবে।