রংপুর নগরীর একটি বাড়ির ছাদে ছোট-ছোট গাছে ঝুলছে থোকা থোকা মাল্টা। একেকটি গাছে ১৫ থেকে ৪০টি পর্যন্ত। নীল আকাশের নিচে মুক্ত বাতাসে দোল খাচ্ছে গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টাগুলো। শুধু মাল্টাই নয়, ২ হাজার ৪০০ ফিট ছাদে ৪০টি টব এবং প্লাস্টিকের ড্রামে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফুল, ফল ও সবজির গাছ লাগিয়ে ছাদকৃষি গড়ে তুলেছেন নগরীর এক দম্পতি। মতলুবুর রহমান সাজু ও স্ত্রী মোহসেনা পারভীনের মতো রংপুর শহরে অনেকেই ছাদকৃষিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। নগরীর আড়াই শতাধিক ভবনের ছাদে এমন ছাদকৃষি করার কথা জানা গেছে।
নগরী ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাসরত নগরীর সমাজকল্যাণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মতলুবুর রহমান সাজু এবং তার স্ত্রী কেরানীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহসেনা পারভীন, দুজনে মিলে চমত্কারভাবে সাজিয়ে তুলেছেন তাদের ছাদ বাগান। স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তি ও ছেলে আফিফও অবসর সময়ে এই ছাদ বাগানের পরিচর্যা করেন। তাদের ছাদবাগানে শতাধিক ফুল, ফল, ওষুধি ও রকমারি পাতা বাহারের গাছ আছে। ফুলের গাছের মধ্যে রয়েছে লাল-সাদা-হলুদ-ইরানি গোলাপ, নয়ন তারা, মাধবীলতা, এলোমন্ডা, বেলী, হাসনাহেনা, জবা, গন্ধরাজ ইত্যাদি। ফল গাছের মধ্যে রয়েছে: ভুটান আপেল, চায়না-৩ কমলা, বারমাসী লেবুগাছ, জামবুরা, কাজী পেয়ারা, থাই পেয়ারা, ডালিম, লটকন, করমচা, ১২ জাতের আনারস, স্ট্রবেরি, ভুটান কমলা, মালটা, বারি-৪ আম, হাড়িভাঙা আম, ড্রাগন, আলুবোখারা, আঙ্গুর, কলা, আতা ও জলপাই। ঔষধি গাছের মধ্যে রয়েছে এলোভেরা, পাথরকুচি, তুলসী, পুদিনা ও মেহেদী।
এই দম্পতি জানান, গোবর সার ও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিজের তৈরি করা সার যথাযথভাবে প্রয়োগ করে পরিচর্যার ফলে স্বাভাবিক মাটির চাষের মতোই মাটি, সিমেন্ট ও প্লাস্টিকের টবে ফলন ও উত্পাদন ভালো হচ্ছে। অধিক ফলন হওয়ায় পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মিটছে তাদের। মতলুবুর রহমান সাজু বলেন, অবসরে মোবাইল আসক্তির বদলে যদি মানুষ ছাদবাগান নিয়ে কাজ করে, তাহলে নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে তা সহায়ক হয়ে উঠবে। বাগানটি আরো বাড়ানোর ইচ্ছে আছে তার।
মোহসেনা পারভীন বলেন, গাছগুলোর যত্ন করছি নিজের সন্তানের মতো করে। কোন গাছে কীটনাশক ব্যবহার করি না। প্রতিটি গাছে জৈব সার ব্যবহার করি। চাকরির পাশাপাশি আমাদের অবসর সময়টা কাটে এই ছাদ বাগানে। আমরা কৃষি অধিদপ্তরের কাছে পরামর্শ নিয়ে আমাদের বাগান সাজিয়েছি। অনেক প্রতিবেশী আমাদের কাছে এখন ছাদে বাগানের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
ছাদকৃষির বিষয়ে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওবাইদুর রহমান বলেন, শহরের শৌখিন বাড়িমালিকরা ছাদে চাষাবাদ করছেন। তারা কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ নিচ্ছেন। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।