ট্রলারডুবির ঘটনায় মামলা, চালকসহ গ্রেফতার ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে লইসকা বিলে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় শনিবার আরো এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ২২-এ দাঁড়াল। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে স্বজন হারানো এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সাত জনের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত ট্রলারচালকসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেছে।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার চম্পকনগর ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে সদর উপজেলার আনন্দবাজার যাওয়ার পথে একটি বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। রাতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ২১ লাশ উদ্ধার করা হয়।

মামলার বাদী সেলিম মিয়া (৪০) বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের গেরারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তার চার জন স্বজন মারা গেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো দুই জনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এছাড়া দুইটি বাল্কহেড (ইঞ্জিনচালিত বালুর নৌকা) আটক করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বালুবাহী ট্রলারের মাঝি (চালক) জেলার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ষোলাবাড়ি এলাকার জমির মিয়া, মো. রাসেল, খোকন মিয়া, মো. সোলায়মান ও বিজয়নগর পত্তন ইউনিয়নের কালারটেক গ্রামের মিস্টু মিয়া।

জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

ট্রলাডুবিতে নিহতদের    মধ্যে আছেন—মঞ্জু বেগম, মামুন ভূঁইয়া, তাকওয়া, ফরিদা বেগম, মুন্নি, কমলা বেগম, মিনারা বেগম, অঞ্জলী বিশ্বাস, মোমেনা বেগম, তানভীর, সাজিম, শারমিন, কাজলী বেগম, তাসফিয়া মীম, ঝরনা বেগম, তিথিবা বিশ্বাস, সিরাজুল ইসলাম, মাইদা আক্তার, সাজিদ, রুবিনা আক্তার, নুসরাত জাহান ও নাফসা আক্তার।

শুক্রবার রাতেই সদর হাসপাতালে ২০টি এবং ঘটনাস্থলে এক জনের লাশ স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া শিশুর লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে লইসকা বিলের ঐ নৌপথে সাময়িকভাবে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।