গত এক দশকে দেশে মত্স্য উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যা বিশ্বের মূল উত্পাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে দ্বিতীয়। এ তথ্য জানিয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী চাষকৃত মত্স্য উত্পাদনের প্রবৃদ্ধির হার যখন ধীরগতিসম্পন্ন, তখন আমাদের প্রবৃদ্ধির ধারা ঊর্ধ্বমুখী। তিনি বলেন, ভাতে-মাছে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গাতে আমরা শুধু পরিপূর্ণতাই আনব না, মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মত্স্য ভবনে জাতীয় মত্স্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এবার মত্স্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’। গতকাল থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মত্স্য সপ্তাহ উদ্যাপন করা হবে। আজ রবিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় মত্স্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তিনি সংসদ লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। আর ৩১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে বিদেশ থেকে আমাদের অনেক প্রবাসী বেকার হয়ে দেশে ফিরছেন। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের চাকরি বা ব্যবসা যারা করতেন তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন। করোনায় সৃষ্ট এই বেকারদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে মত্স্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাদ-গন্ধ ফিরে এসেছে, পরিমাণ বেড়েছে। দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে। বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মত্স্য খাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও অপ্রচলিত মত্স্য সম্পদের বিস্তার ঘটছে জানিয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত মাছ রয়েছে। ফলে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে, গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, মত্স্য খাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার করেছি। মাছ রপ্তানির জন্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদেশে পাঠানো মাছের চালান দেশে ফেরত না আসে। বিষাক্ত কোনো খাবার দিয়ে মাছ চাষ না করার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, মত্স্য খাতে যারা অবদান রাখছেন, তাদের উত্সাহিত করতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে এ বছর বিভিন্ন খাতে মত্স্য পদক প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, মত্স্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।