কলা বারোমাসি সবজি, ফল তো বটেই। দেশের প্রায় সর্বত্র সারা বছর কলা উত্পাদিত হয়। কলার উত্পত্তিস্থল নিয়ে নানা মত রয়েছে। উগান্ডা, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, থাইল্যান্ড, ভেনিজুয়েলা, ফিলিপাইন, মেক্সিকো, তাইওয়ান, স্পেন, জ্যামাইকা, মালয়েশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশ কলার প্রধান উত্পাদনকারী দেশ।
কলা একবীজপত্রী উদ্ভিদ। অনেক প্রজাতির কলা রয়েছে। কলার শ্রেণিবিভাগ করা অত্যন্ত শক্ত। বাংলাদেশে তিন প্রজাতির কলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—মুজা প্যারাডিসিয়েকা, মুজা স্যাপিয়েন্টাম এবং মুজা ক্যাডেনডিসি। আনাজি বা কাঁচা কলা হলো প্যারাডিসিয়েকার অন্তগর্ত। পাকা অবস্থায় খাওয়ার উপযোগী কলা হলো স্যাপিয়েন্টম এবং ছোট বা বামনাকার উন্নত জাতের কলা ক্যাডেনডিসি প্রজাতিভুক্ত। বাংলাদেশে উত্কৃষ্ট কলার মধ্যে রয়েছে অমৃত সাগর, সবরী, সিঙ্গাপুরি, অগ্নিশ্বর, দুধসর, চাঁপা, চন্দন কবরী, মাদ্রাজি ইত্যাদি। কলা চাষের জন্য বাংলাদেশের জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী। কলার জন্য মাটি খুব উর্বর এবং মাটির মধ্যে যথেষ্ট পানি থাকা প্রয়োজন। রৌদ্রমুক্ত জায়গা এবং পানি সেচ ও নিকাশের সুবিধামুক্ত উর্বর ও পলিমাটিযুক্ত স্থান কলার জন্য উপযোগী।
বাংলাদেশে কলার যথেষ্ট কদর রয়েছে। কলা পুষ্টিগুণে ভরপুর। কলার মতো খাদ্যপ্রাণ খুব কম সংখ্যক ফলই রয়েছে। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, বি১, বি২, ক্যলিসিয়াম, শর্করা, চর্বি, প্রোটিন, লৌহ, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি। কলায় যে লৌহ জাতীয় উপাদান রয়েছে তা রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, দেহ গঠন ও সংরক্ষণের অনেক উপাদানই কলায় রয়েছে। কাঁচা ও পাকা উভয় কলাতেই রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিমান।
কলা যেমন সুস্বাদু তেমনি সহজপাচ্য। চিকিত্সকরা এ কারণে রোগীর রোগমুক্তির পরবর্তী পথ্যরূপে কাঁচা কলার তরকারি খাওয়ার পরামর্শ দেন। কাঁচা কলার তরকারির জুড়ি মেলা ভার। এটি কেবল পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ নয়, মুখরোচকও বটে। কলার রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার। কলার থোড় ও মোচা তরকারি হিসাবে খাওয়া হয়। এসব নানাবিধ খাদ্য উপাদানে সমৃদ্ধ। বর্তমানে কলার কেক ও বড়া তৈরি হচ্ছে এবং ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষাকারীও। আজকাল কলা আর দুধ মিলে মজাদার আইসক্রিম তৈরি হচ্ছে।
হাসান মাহমুদ রিপন