সম্প্রতি হয়ে গেল বিশ্ব ফটোগ্রাফার দিবস। ১৮৩৯ সাল থেকে প্রতি বছর দিনটি পালিত হচ্ছে। ফটোগ্রাফির সঙ্গে নিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী ফটোগ্রাফার দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে বিয়েবাড়ি, ঘুরতে যাওয়া, কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়লে ছবি তুলতে মন চায় যে কারো। এক্ষেত্রে একজন ফটোগ্রাফারের জুড়ি নেই। ফটোগ্রাফি এমন একটি পেশা যেটা কেউ শখের বসে করে আবার কেউ পেশার তাগিদে। শখের বসে ফটোগ্রাফি করার জন্য হাতে ক্যামেরা হাতে তুলে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কয়েক জন শিক্ষার্থী। ফটোগ্রাফার দিবসে তাদের গল্প তুলে ধরেছেন— সজিবুর রহমান
টিউশনির টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনেছি
—সাব্বির খান (রসায়ন, ৪র্থ বর্ষ)
কোনো এক মহামানব বলেছিলেন স্বপ্ন সেটা নয় যেটা আমরা ঘুমের মাঝে দেখি, স্বপ্ন সেটাই যা পূরণের চিন্তা আমাদের ঘুমাতে দেয় না! বাস্তব জীবনেও ব্যাপারটা এমন। আমার স্বপ্ন ফোটোগ্রাফার হওয়া আর এখানে আমি পদে পদে বাধা পেয়েছি। পরিবার আমাকে কখনোই সাপোর্ট দেয়নি। আত্মীয়, পাড়া-প্রতিবেশীরা দেখা হলেই কি বাবা পড়াশুনা শেষ করবা ভালো চাকরি করবা তা না করে এদিক ওদিক গিয়ে ছবি তুলে বেড়াও কেন? এমন অনেক কথা শুনিয়েছেন সুযোগ পেলেই। নিজের ক্যামেরা ছিল না গত বছরও। মাঝে মধ্যে বন্ধুদের ক্যামেরা নিয়ে দুই-একটা ছবি তুলতাম আর এটুকুতে-ই সীমাবদ্ধ ছিল আমার শখ। একবার টিউশনির টাকা জমাচ্ছিলাম ক্যামেরা কিনব বলে কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি। তবে অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে গত বছর অক্টোবর মাসে কিনেছিলাম আমার শখের ক্যামেরা। এক বছরে অনেক ইভেন্ট করেছি, অনেক পরিবেশে গিয়েছি কাজ করতে যার প্রতিটা-ই এক একটা অভিজ্ঞতা!
মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করে অনেক কিছু শিখছি, তবে শেখার এখন ও অনেক বাকি। এখন পরিবার থেকেও সাপোর্ট পাচ্ছি। ছোট ছোট অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গেলে এখন অনেক কথাই আসবে যেটা শুনতে খুব সহজ মনে হলেও সেই সময়টা পার করতে আমার বেশ কষ্ট করতে হয়েছে!
একজন ফটোগ্রাফারের তৃতীয় নয়ন
—সেতু খান (বাংলা বিভাগ, প্রথম বর্ষ)
ফটোগ্রাফি একটা অন্যরকমের আর্ট। এটা অবশ্যই প্যাশন এবং প্রফেশন দুটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব বহন করে। আমি আমার ফটোগ্রাফিকে রোমান্টিক এবং শৈল্পিক হিসেবে বর্ণনা করতে পছন্দ করি এবং হালকা স্নিগ্ধতা, রঙ এবং টেক্সচারের সঙ্গে খেলতে ভালোবাসি। একজন ফটোগ্রাফার আর ১০ জন মানুষের চেয়ে সবকিছুকে অনেক আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা রাখে। সবার কাছে যেটা সাধারণ, একজন ফটোগ্রাফার সেই জিনিসটাকেই তার ক্যামেরার মাধ্যমে অনন্যতা দান করতে পারে। ক্যামেরাই একজন ফটোগ্রাফারের তৃতীয় নয়ন। প্রকৃতি, সবুজের স্নিগ্ধতা, আকাশের শুভ্রতা এসব কিছুই এক অন্য আঙ্গিকে তুলে ধরাই ফটোগ্রাফি। আজকাল মুঠোফোন অনেক সহজলভ্য। আর এখন কমবেশি সবাই মোবাইলে ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করে। ছবি তুলতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। সবার ভেতরই কমবেশি এই শখটা থাকে। কেউ কেউ এই শখটাকেই কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের উপায় বের করে নিচ্ছে। যে কোনো জায়গায় একজন ফটোগ্রাফারের চাহিদা অনস্বীকার্য। বিবাহ, জন্মদিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়াও ইনডোর আউটডোর ফটোশুটের প্রচুর ডিমান্ড এখন।
নিজের শখ নিজে পূরণের চেষ্টা
—মেহেরাব হোসেন নাজেশ (পদার্থ বিজ্ঞান, ৪র্থ বর্ষ)
মানুষের জীবনের অনেক ধরনের শখ থাকে। ভিন্ন মানুষের ভিন্ন ধরনের শখ। তেমনি আমার জীবনে ফটোগ্রাফি অন্যতম একটি শখ। বাল্যকাল থেকে ফোন দিয়ে চেষ্টা চালালেও মাধ্যমিকের পর ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে একটু গভীরভাবে চেষ্টা চালানো শুরু করি। হতে পারে ছবি খারাপ হয়। কিন্তু নিজের শখ নিজে পূরণের চেষ্টা তা এক অন্যরকম আত্মসন্তুষ্টি পায়। আমার লক্ষ্য ভবিষ্যতে সব ফটো কনটেস্টে অংশগ্রহণ করা ও বিজয়ী হওয়া।
সুন্দর মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি রাখার চেষ্টা করি
—আজমির হক মিশন (মার্কেটিং, প্রথম বর্ষ)
অনেকে থাকেন, যারা আঁকতে ভালোবাসেন। অনেকে আছেন যারা পড়তে ভালোবাসেন। আবার অনেকে আছেন যারা চারপাশ উপলব্ধি করতে ভালোবাসেন। একটা সময় ছিল, যখন হাতে কোনো ক্যামেরা ছিল না, ভালো কোনো ফোনও ছিল না। তখন মুগ্ধ হতাম পরিবেশের সৌন্দর্য, দৈনিক জীবনের বাস্তবতা, আর শৈশবের চঞ্চলতা দেখে। কল্পনা করতাম এ মুহূর্তগুলো ফ্রেমে বেঁধে রাখার। একসময় হাতে এলো একটা ফোন। ব্যাস, এখান থেকেই শুরু। ফ্রেমবন্দি রাখতে চেষ্টা করতে শুরু করলাম প্রতিটি সুন্দর মুহূর্ত। কল্পনা থেকে শখের শুরুটা হলো। আর শখ একসময় আমার কাছে নেশা হয়ে ধরা দিল। সবাই অনেক ভালোবেসে গ্রহণ করে নিল আমাকে। একটা ভালো কিছু ক্যামেরাবন্দি করতে পারলে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে।