নারীরা পালটে দিয়েছেন সখীপুরের গ্রামীণ সড়ক

 

সবুজে ঘেরা সড়কেই দা, কোদাল ও লাঠি হাতে একদল নারী সড়ক পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছেন। নারীরা বাড়িতে যেমনি ঘর-দুয়ার পরিষ্কার করেন, সৌন্দর্যবর্ধন করেন, সড়কের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টাঙ্গাইলের সখীপুরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত, সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছেন নারীরা। প্রতি ইউনিয়নে ১০ জন নারীর একটি দল সপ্তাহের ছয় দিন এসব কাজ করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের এলজিইডির আওতাভুক্ত বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে। নারীরা যে কেবল ঘরের ভেতর নয়, বাইরেও পুরুষের মতো সব কাজে সমান পারদর্শী সে প্রমাণটাই রেখে চলেছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ১২০ জন সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নারীকর্মী।

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নারীকর্মী লাইলী বেগম, বিউটি আক্তার ও কালিয়া ইউনিয়নের নারীকর্মী মলি আক্তার ও হাছনা বেগম  বলেন, মাসিক ৭ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে এই চাকরি করি। এর মধ্যে মাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সঞ্চয় হিসাবে জমা করতে হয়। এই কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবেই জীবন যাপন করছি। সন্তানকে লেখাপড়া করাতে পারছি। তারা ‘পল্লি কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি-৩ (আরইআরএমপি-৩)’ এ কাজ করে। এ কর্মসূচির মেয়াদ চার বছর। অন্যদিকে উপজেলার চারটি সড়কে লেবার কন্টাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) অর্থাত্ চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক দল কর্মসূচির আওতায় চার জন সুপাভাইজার (পুরুষ) ও ৪০ জন নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা মাসিক ৯ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। তারাও মাসিক ৩ হাজার টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেন। তাদের কর্মসূচি মেয়াদ তিন বছর।

এলজিইডির ‘পল্লি কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি-৩ (আরইআরএমপি-৩)’ এর আওতায় গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ যেমন পাকা সড়কের শোল্ডার, সড়কের স্লোপ, রেইনকাট মেরামত, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের ফলে সৃষ্ট খাদ ভরাট, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ছোট ছোট ব্রিজ/কালভার্টের এপ্রোচ মেরামত ও সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।