বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে যেখানে নারীদের হেয় করা হয়, দমিয়ে রাখা হয় বিভিন্নভাবে। পারিবারিক-সামাজিক বিধিনিষেধ জয় করে অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে হাজার হাজার নারী সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে সংগঠনের কর্ণধার এবং প্রতিটি সদস্য। এই এগিয়ে যাবার পথে তৈরি হয়েছে কতশত গল্প, রয়েছে সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না মাখা কতশত কাহিনি। উদ্যোমী নারীদের সঙ্গে নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য ইতিহাস। অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে আজ সাফল্যের শীর্ষে এই ইতিহাসের রচয়িতা।
বলছিলাম সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অনুমোদনপ্রাপ্ত সংগঠন ‘পপ অব কালার’ এবং এর কর্ণধার টিংকার জান্নাত মিমের কথা। আজ থেকে বছর সাতেক আগের কথা, নারী জাগরণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে কয়েক জন মুক্তমনা নারীকে নিয়ে গঠন করেন একটি অনলাইন গ্রুপ। সেখানে নারীরা তাদের প্রাত্যহিক জীবন এবং জীবিকা নিয়ে আলোচনা করত; কিন্তু আজ এটি শুধু একটি অনলাইন গ্রুপ নয়, একটি কোম্পানি বটে। কোম্পানিতে রূপপ্রাপ্ত এবং বৈধভাবে ব্যবসা করার অনুমতিপ্রাপ্ত এটিই দেশের প্রথম ফেসবুক গ্রুপ। সর্বপ্রথম ট্রেডমার্ক করা অনলাইন প্ল্যাটফরম হিসেবে পপ অব কালার ব্যবসা, চাকরি এবং অন্যান্য অনেক কাজেই সহায়তা করছে দীর্ঘদিন ধরে।
২০১৬ সালে বিয়ের পর নিজের ইচ্ছেশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের পূর্ণ সমর্থন, যা এই মহীয়সী নারীর সাফল্যের পথকে অনেকটাই সুগম করে দিয়েছে। নতুন নতুন চিন্তাধারাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সমাজের জন্য আরো ভালো কিছু করার তাগিদেই লড়াই করে যাচ্ছেন এই নারী। ভবিষ্যতে নারী উন্নয়নে আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছে আছে মীমের, সেই অনুযায়ী কিছু পরিকল্পনাও করে রেখেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ যেন প্রত্যেকটা জেলায় বিস্তৃত হয় এটিই কাম্য। ‘পপ অব কালার’ এ এসে প্রত্যেকটা মেয়ে যেন তাদের সমস্যা বা হয়রানি নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং উপকৃত হতে পারে এই দিকটা নিশ্চিত করতে চান তিনি। নারীদের সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ পুরস্কার প্রদানেরও ব্যবস্থা করতে চান মীম। এতে করে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবেন কোনো একটি উদ্যোগ নিতে।