ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলায় নদী ও খালবিলে অতিসূক্ষ্ম চায়না জাল দিয়ে মাছ শিকারের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ বিলীন হতে চলেছে। এরই মধ্যে এসব মাছের উত্পাদন তলানিতে ঠেকেছে। আর সংকটে পড়েছেন নদী-তীরবর্তী মত্স্যজীবীরা।
ঝিনাইদহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদনদীগুলোর মধ্যে একমাত্র গড়াই জীবিত আছে। বাকি ১২টি নদী মৃত। এসব নদীতে এখনো বিলুপ্তপ্রায় কিছু দেশি মাছ আছে। এসব মাছের মধ্যে আছে পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ফলি, চিংড়ি, শিং, মাগুর, কই, সরপুঁটি, শোল, বোয়াল, রয়না, আইড় এবং রুই-কাতলা। গত কয়েক বছর আগে প্রথমে শৈলকুপা উপজেলার কুমার নদীতে এ জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে নদীটির তীরের এক শ্রেণির অমত্স্যজীবী। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা থেকে শুরু করে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা পর্যন্ত নদীতে জাল পেতে মাছ ধরে আসছে তারা। এ জাল আড়াআড়িভাবে পেতে রাখা হয়। জালের দুই পাশ দিয়ে মাছ ঢুকে আটকা পড়ে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোনাও আটকা পড়ে। এ জাল দিয়ে নদী থেকে মাছ ছেকে ধরা হচ্ছে। ফলে দেশি প্রজাতির মাছ একেবারেই কমে গেছে বলে নদী তীরের লোকেরা জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর, মাগুরা, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা থেকে এ জাল কিনে আনা হয়। নদী ছাড়াও খালবিলে এ জাল পাতা হচ্ছে। শৈলকুপা উপজেলার ফাদিলপুর গ্রামের জেলে দীনবন্ধু বিশ্বাস জানান, চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরার ফলে কুমার নদী মাছশূন্য হতে চলেছে। বিজুলিয়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া মোল্লা বলেন, চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ না করলে নদীর দেশি মাছ আর পাওয়া যাবে না। কয়েক দিন আগে কুমার নদীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এরপর দিনের বেলায় জাল না পেতে সন্ধ্যার পর পাতা হচ্ছে। আর ভোরে তোলা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ খাল বা বিলে এ জাল পাতছে।
জেলা মত্স্য কর্মকর্তা শেখ আলফাজ উদ্দিন বলেন, চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে সব উপজেলা মত্স্য অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা এভাবে মাছ ধরছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দিতে বলা হয়েছে। শৈলকুপা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পার্থ প্রতীম শীল জানান, সম্প্রতি শৈলকুপা ব্রিজ থেকে ফুলহরি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০টি চায়না জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।