চট্টগ্রামে মেডিক্যালে চালু হচ্ছে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন,চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একই ছাদের নিচে মিলবে সব চিকিত্সা। সেই লক্ষ্যে জরুরি বিভাগ আধুনিকায়ন করে নির্মাণ করা হয়েছে ‘ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার’ ইউনিট। এখন চিকিত্সা সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর চিকিত্সা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় এর ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি বিভাগের এই ওয়ার্ডে ১০০ শয্যা সংযোজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেড বসানো হয়েছে। এখন ইসিজি, এক্সরে, আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবসহ রোগ পরীক্ষার সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। প্রায় ৩ কোটি টাকার চিকিত্সা সরঞ্জাম বসানো হচ্ছে। এখানে মেডিসিন, সার্জারি, কার্ডিওলজি, নাক-কান-গলা, অর্থোপেডিক ও অ্যানেসথেসিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কনসালট্যান্ট চিকিত্সক নিয়োজিত থাকবেন। গণপূর্ত বিভাগ প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি দিয়ে থাকেন। জরুরি বিভাগে রোগীদের পর্যবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদেরও ওয়ার্ডে ভর্তি দেয়া হয়ে থাকে। চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের জরুরি বিভাগে ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ করে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে যেতে অনেক সময় লেগে যায়। বর্তমান প্রক্রিয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে পৌঁছতে জটিল রোগীর অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ওয়ার্ডে যাওয়ার পর রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিয়ে রোগীদের ছোটাছুটি করতে হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ১৩১৩ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। মেডিসিন, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক, গাইনি, সার্জারিসহ কয়েকটি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ফ্লোরে, বারান্দায় রেখে রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি বিভাগে আসা  রোগীদের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিত্সক ঝুঁকি না নিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক রোগীকে ভর্তি দিয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুর কবির বলেন, এক ছাদের নিচে রোগীরা চিকিত্সা সেবা পাবেন। আগত  রোগীকে প্রথমে এখানে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পরীক্ষা নরীক্ষা করে দেখবেন কর্তব্যরত চিকিত্সক। যদি রোগীকে ভর্তির প্রয়োজন না হয় তাহলে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেবেন। যদি দীর্ঘমেয়াদি চিকিত্সার প্রয়োজন হয় তাহলে ওয়ার্ডে ভর্তি দিয়ে দেবেন।