মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক
সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ,সিলেট
গতকালের পর
নীলকান্তবাবু বললেন-শেভ করাও নিষেধ বলে কেউ কেউ। কিন্তু সেলুনে তো দেদারসে চুলদাড়ি কাটা হচ্ছে।
প্রাচী বলল-সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে আমাদের বাংলাদেশের মানুষই শুধু এরকম ভাবে? নাকি অন্যরাও ভুল ধারণা করে?
নীলকান্তবাবু বললেন, অনেক দেশের অনেক মানুষই অন্যরকম ভাবে। পশ্চিম আফ্রিকার বেনিন ও টোগো উপজাতির মানুষজন বলে গ্রহণ মানে চন্দ্র ও সূর্যের মধ্যে ক্রমাগত যুদ্ধ। একমাত্র পৃথিবীই এই যুদ্ধ থামাতে পারে। ভিয়েতনামে মনে করা হয় বৃহদাকার কোনও ব্যাং সূর্যকে গিলে ফেলেছে। ইউরোপের ভাইকিংসরা মনে করে একটা নেকড়ে এসে সূর্যকে খেয়ে ফেলেছে।
মজার তো, বলল পিউ।
আরও আছে, কোরিয়ানরা মনে করে একটা রাক্ষুসে কুকুর সূর্যকে চুরি করে নিয়ে যায়। কোরিয়ান লোকসঙ্গীতে এ নিয়ে অনেক গানও রয়েছে। প্রাচীন গ্রিসের পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে কোনও দেবদেবী রুষ্ট হলেই সূর্যগ্রহণ হবে। চৈনিক সভ্যতা, এমনকি আমেরিকা ইউরোপেরও অনেকেই মনে করত ড্রাগন সূর্যকে গিলে খেলেই সূর্যগ্রহণ হয়। ম্যাক্সিকান সংস্কৃতিতেও আছে, গ্রহণের সময় সূর্যের এক টুকরা খেয়ে ফেলা হয়। গর্ভবতী মা সূর্যগ্রহণ দেখলে গর্ভের সন্তানেরও এক টুকরা খেয়ে নেবে। পাকিস্তানের মানুষ মনে করে সূর্যগ্রহণের সময় কাত হয়ে ঘুমালে গর্ভের শিশু বিকলাঙ্গ হবে। তাই গর্ভবতী মায়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও চিত্ করে শুইয়ে দেয়া হতো।
কমলা বললেন, দেবতা রাহুর গ্রাসে চন্দ্র ও সূর্যের গ্রহণ হয়, এরকম মতবাদ তো আমাদের দেশে এবং ভারতেও প্রচলিত আছে।
ঠিকই বলেছ, বললেন নীলকান্তবাবু। অথচ 499 খ্রিস্টাব্দেই ভারতীয় গণিতবিদ আর্যভট্ট, তাঁর ‘আর্যভট্টীয়’ নামক গ্রন্থে সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
কী বলেছিলেন? বলল রিয়া।
নীলকান্তবাবু বললেন, ‘আর্যভট্টীয়’ গ্রন্থে চারটি পরিচ্ছেদ ছিল। দশগীতিকা, গণিতপাদ, কালক্রিয়া, গোলপাদ। এর মধ্যে দশগীতিকা অংশে পৃথিবীর আহ্নিক গতির কথা উল্লেখ রয়েছে। পৃথিবী গোলাকার এবং আপন অক্ষের ওপর ঘুরছে, একথা তিনি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন চন্দ্রের নিজস্ব কোনও আলো নেই, সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীর কিছু অংশকে আলোকিত করে। দেবতা রাহু ও কেতুর গ্রাসের কারণে চন্দ্র ও সূর্যের গ্রহণ হয়, এই ধারণা তিনি বাতিল করে দেন। গ্রহণের কারণ হিসেবে তিনি চন্দ্র ও পৃথিবীর ছায়ার কথা বলেন।
রিপা বলল, অথচ মানুষ কী বোকা, এখনও এইসব আজগুবি কথা বিশ্বাস করে।
পরের অংশ আগামীকাল