স্পোর্টস ডেস্ক
খেলার ততক্ষণে বিরতি পেরিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের সময় চলছে। কিন্তু স্তাদে অগুস্তের দেলন স্টেডিয়ামের সিংহভাগ দর্শকের তাতে খুব একটা মনোযোগ নেই। নজর তখন অন্যদিকে তাদের। মাঠে নামার জন্য লিওনেল মেসির গা গরম দেখে এতটাই উল্লাসিত ছিলেন তারা যে, মেসি কখন মাঠে নামবেন সে চিন্তা কয়েক মুহূর্তের জন্য মাথা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। সেই মেসি যখন ৩০ নম্বর জার্সি গায়ে পরে মাঠে নামলেন, তখন উল্লাসের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়ে লিগ ওয়ানে স্বাগত জানান বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকাকে। খেলার বাকি সময়টা মেসি সৌরভেই মেতে ওঠে তারা।
প্যারিস সেইন্ট জার্মেই কোচ মরিসিও পচেত্তিনো আগেই জানিয়েছিলেন রাসের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকছেন না মেসি। তাই মেসির অভিষেক দেখার জন্য ৬৬ মিনিট অপেক্ষায় থাকতে হয় ২১ হাজার দর্শককে। বন্ধু নেইমারের বদলি হয়ে মেসি যখন মাঠে প্রবেশ করেন ততক্ষণে ২-০ গোলে এগিয়ে পিএসজি। দুটোই এসেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের পা থেকে। যিনি পিএসজিতে থাকবেন কি না সেটা জানা যাবে আজকের পর।
মাঠে নামার পর খেলার আগ্রহের পুরোটা কেন্দ্র জুড়েই ছিলেন মেসি। গোল হয়তো পাননি। কিন্তু তা নিয়ে খুব একটা আক্ষেপ কেউ করছেন না বোধ হয়। কেননা মেসির অভিষেক ম্যাচ যে বারবার আসবে না। সেটির স্মৃতি সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়াটাই অনেকের কাছে বিশাল কিছু। তাই তো ম্যাচ শেষে, নিজের ছেলেকে মেসির কোলে দিয়ে ছবি তুলতে দেখা যায় রাস গোলরক্ষক প্রেদরাগ রাজকোভিচকে।
অথচ মেসির ক্যারিয়ারের শুরু মতো, তেমনি মেসির শেষটা ব্লাউগ্রানা জার্সি গায়ে দেখে যাওয়ার দৃশ্য এঁকেছিলেন বার্সেলোনা ভক্তরা। কিন্তু লা লিগার অর্থনৈতিক অবকাঠামোর বেড়াজালে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। একুশ বছরের সম্পর্ক শেষ করে পিএসজিতে পাড়ি জমান মেসি। তখন থেকেই বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ডের অভিষেকের প্রহর গুনছিল ফ্রেঞ্চ লিগের দর্শকরা।
মেসির অভিষেক নিয়ে পিএসজি কোচ পচেত্তিনো বলেন, ‘আমি তার অভিষেক নিয়ে খুবই খুশি। এটা তার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বলে প্রথম স্পর্শ থেকেই ভালো ছিল সে। তার উপস্থিতি দলে মানসিক প্রশান্তি এনে দিয়েছে। জয় দিয়ে শুরু করাটা ভালো ছিল। তার জন্য দর্শকের হর্ষধ্বনি শুনে ভালো লাগছিল। শুধু আমাদের সমর্থকদের থেকেই নয়, প্রতিপক্ষের থেকেও। এটা এমন কিছু যা মেসি অর্জন করেছে।’