‘নিজেকে বন্দী মনে হয়’, বলছেন তালেবান নিয়ন্ত্রিত শহরের বাসিন্দারা

আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত। সেখানে ৫ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির অন্যান্য স্থানের মতো এটিও বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাণিজ্যিক ও ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক এই রাজধানী শহরটি ইরান ও তুর্কমিনিস্তান সীমান্তের নিকটবর্তী। কিন্তু তালেবান আসার পর থেকেই সেখানকার মানুষের জনজীবনে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তালেবান কর্তৃক শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তাদের জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত তারা।

স্থানীয় এনজিও কর্মী সানা বলেন, ‘এখন নিজেকে বন্দী মনে হয়। মাঝেমধ্যেই আমি চোখ বন্ধ করি এবং চিন্তা করি যে ঘুমে আছি এবং একটি দুঃস্বপ্ন দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন তালেবানের সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন গল্প শুনি। তারা বেসামরিক লোকদের ওপর নির্যাতন চালায়। আমাদের বাড়ির নিকটেই, তালেবান সদস্যরা দুই জন লোকের হাত কেটে দিয়েছে বলে শুনেছি। ওই লোক দু’টির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ ছিল।’

অঞ্চলটিতে নারীর অধিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, নারীদের কাজে যাওয়ার অনুমতি নেই। যদি কেউ বাইরে যেতে চায়, তার সঙ্গে অবশ্যই পরিবারের একজন পুরুষ সদস্য থাকতে হবে। পাশাপাশি নারীদের বোরকা ও হিজাব পরিধান থাকতে হবে, যেন তাদের চেহারা অন্য কেউ দেখতে না পারেন।

পুরুষরা জিন্স ও টি-শার্ট পরিধান করতে পারবেন না। সবাইকে আফগান ড্রেস পরতে হবে। এমন নির্দেশনা দিয়েছে তালেবান।

সাঈদ নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, বিরোধীদের সন্ধানে এখনো বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছে তালেবান সদস্যরা। যার কারণে মানুষজন ভয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আছে, আমিসহ।

হিজাব পরিধান করার শর্তে মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। তবে আমার পড়ালেখা প্রায় শেষের পথে। লাস্ট সেমিস্টার বাকি রয়েছে, শেষ করতে পারিনি। সত্যি বলতে, আমি তালেবান শাসন চাই না। গত ২০ বছরে আমরা যা অর্জন করেছি, এখন সব শেষ। যোগ করেন তিনি।

ইত্তেফাক/টিএ