রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দুই বছর ধরে পড়ে আছে আইসিইউ সুবিধার অ্যাম্বুলেন্স। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) এবং আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সুবিধাসংবলিত অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটি রামেক হাসপাতালের গ্যারেজে পড়ে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘প্রয়োজনীয় লোকবল (আইসিইউ চিকিত্সক ও নার্স) না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহূত হচ্ছে না।রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, অ্যাম্বুলেন্সটির ভেতরে উন্নত প্রযুক্তির পালস অক্সিমিটার, ইসিজি মেশিন, সিরিঞ্জ পাম্প, ভ্যান্টিলেটর মেশিন, সাকার মেশিন, মনিটর ও অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ জীবনরক্ষাকারী সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৫ টাকা দামের অ্যাম্বুলেন্সটি ২০১৯ সালের ৬ মে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সূত্র মতে, রোগীর শয্যা, চিকিত্সক ও নার্সের আসনসহ অ্যাম্বুলেন্সটি যেভাবে সরবরাহ করা হয়, সেভাবেই মোড়ানো রয়েছে, খুলেও দেখা হয়নি। ইতালি থেকে আমদানিকৃত ‘আইভেকো’ ব্র্যান্ডের অ্যাম্বুলেন্সটি রামেক হাসপাতালে সরবরাহ করেছে ‘মেসার্স ফেরিটেক প্রাইভেট লিমিটেড।’ তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিএমএসডি (কেন্দ্রীয় ঔষধাগার) অ্যাম্বুলেন্সটি ক্রয় ও সরবরাহ করেছে।
অ্যাম্বুলেন্সটি চালানোর জন্য ইতিমধ্যে রামেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ইনচার্জ আশরাফুল আলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিদিন এসে গ্যারেজের ভেতরেই অ্যাম্বুলেন্সটি ‘স্টার্ট’ দেন। আধা ঘণ্টা চালু রেখে আবার বন্ধ করে চলে যান। শুধু চাকার হাওয়া কমে গেলে হাওয়া দেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজের বাইরে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন, রাজশাহী জেলা সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কোনো রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার মতো সামর্থ্য রাজশাহীর খুব কম মানুষেরই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এমন একটি অ্যাম্বুলেন্স অযত্নে-অবহেলায় ফেলে রাখার ঘটনার তদন্ত এবং অ্যাম্বুলেন্সটি শিগিগর চালুর দাবি করেন তিনি।
স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. চিন্ময় কান্তি দাস বলেন, আইসিইউর সুবিধা সংবলিত অত্যাধুনিক একটি অ্যাম্বুলেন্স শুধু লোকবলের অভাবে পড়ে থাকবে, এটি মেনে নেওয়া যায় না। এত দামি একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাজশাহীতে আছে, এটি অনেকেই জানেন না। অ্যাম্বুলেন্সটি চালানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম ইয়াজদানী বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি কেউ দান করেছেন অথবা কিনে এনে এ হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে। এটি স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়নি। এমন অ্যাম্বুলেন্স দিতে হলে আইসিইউ জ্ঞান সম্পন্ন চিকিত্সক ও নার্স প্রয়োজন, যাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই হাসপাতালের মতো রোগীর নিশ্চিত করা যায়। লোকবল চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডেরই অনুমোদন নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায়িত্ব ও তত্ত্বাবধানে আইসিইউ চালান।
রামেক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী সদর (২) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, করোনাকালে করোনা রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সটির দিকে নজর দিতে পারেননি। শিগিগরই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।