গোবিন্দগঞ্জে বেপজার কার্যক্রম বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে সাঁওতালদের মানববন্ধন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটামোড় এলাকায় গত রবিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সাঁওতালরা। এতে লাঠি ও তীর-ধনুক হাতে শতাধিক সাঁওতাল অংশ নেন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় তিন ফসলি জমিতে বেপজার কার্যক্রম বন্ধ এবং তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারসহ সাত দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

এর আগে সাঁওতালরা উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে মিছিল নিয়ে কাটামোড় এলাকায় সমবেত হন। তারা লাঠি ও তীর-ধনুক হাতে নানা স্লোগান দেন। সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে। বক্তব্য রাখেন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হাজি নূরুল ইসলাম ও  আজমল হোসেন, সংগ্রাম কমিটির (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুফল হেমব্রম, সহকারী কোষাধ্যক্ষ প্রিসিলা মুরমু, সাঁওতাল নেত্রী কেরিনা হাসদা, যুব নেতা বৃটিশ সরেণ, থোমাস হেমব্রম, সুচিত্রা মুরমু তৃষ্ণা, সদস্য ময়নুল হক ও অলিভিয়া হেমব্রম প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো ফসলি জমি নষ্ট করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু একটি কুচক্রিমহল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা উপেক্ষা করে তিন ফসলির জমিতে ইপিজেড গড়ার পাঁয়তারা করছে। এই জমি এক সময় সাঁওতাল বাঙালিদের সম্পত্তি ছিল। চিনিকল যে শর্তে জমি অধিগ্রহণ করে তা ভঙ্গ হয়েছে। ফলে ঐ জমি পৈত্রিক সূত্রে সাঁওতাল বাঙালিরা মালিক। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার অনেক জায়গা সরকারের পতিত রয়েছে। আমরাও উন্নয়ন চাই। কিন্তু সাঁওতালদের পিছনে ফেলে রেখে সেই উন্নয়ন কতটুকু যুক্তিযুক্ত। এরপরও বেপজার কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে আমরা প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।

এ বিষয়ে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল কবির বলেন, এখানে ইপিজেড নির্মিত হলে অসংখ্য শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সেখানে সাঁওতালদেরও কর্মসংস্থান হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, জমি ফেরতের কোনো সুযোগ নেই।

চিনিকল সূত্র জানায়, সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৩২ একর জমি রয়েছে। এই জমিতে উত্পাদিত আখ মাড়াই হতো। কিন্তু ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর এসব জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন জন সাঁওতাল নিহত ও পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। সম্প্রতি এই জমিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয় সাঁওতালরা এখানে ইপিজেড না করার জন্য আন্দোলন করছে।