দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুলে বিনা অপরাধে তিনবছর কারাভোগ করা জাহালমকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে 'সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন'। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাহালমের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এখানে সংগঠনটির নেতারা বলেন, 'দ্রুত জাহালমকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করা হবে'।
মানববন্ধনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, 'নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে আর যেন জাহালমের মতো নির্দোষ কাউকে গ্রেফতার করে হয়রানি না করা হয়'।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস নিজের বক্তব্যে বলেন, 'নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালম চরম অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, অসংখ্য জাহালম, বাংলাদেশের কারাগারে পচে মরছেন। জাহালমের ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা হওয়া উচিত। জাহালম দিনের পর দিন শুধু কারাগারে কেঁদেছেন। পরিবার থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। চাকরি থেকে বিযুক্ত রাখা হয়'।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ বলেন, 'জাহালম দুদকে হাজিরা দিয়েছেন, আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, অনেকগুলি পর্যায়ের পর জাহালমকে জেলে যেতে হয়েছে। তাকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে'। এছাড়াও মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের নেতা সালেহ আহমেদ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, এস এম এ সবুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার শামছী, অর্থ সম্পাদক মামুনুর রশীদ ও পারভেজ হাসেম।
আরও পড়ুন: দেহের ভেতর থেকেই ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করবে 'টিসোটুম্যাব ভেডোটিন'
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে টাঙ্গাইলের জাহালমকে। গত ২০১৬ সালের ৬ জুন জাহালমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহালমকে। পরে ওই বছরের ২৭ মে তাকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। অর্থ জালয়াতির মামলায় আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে জাহালমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। ৬ ফেব্রুয়ারি জাহালমের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মুক্তি পেলেন তিনি।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি