পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নির্যাতনে মাদরাসাছাত্র আরাফাত হোসেনের (৮) মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে করা নালিশী মামলাটি বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বাউফল থানায় এজাহার হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত মামলা কেন নেওয়া হয়নি তা জানাতে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে, বাউফল থানায় মামলা না নেওয়ায় গত রবিবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন শিশুর বাবা মো. হাসান প্যাদা (২৮)। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল নোমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের মাননীয় বিচারক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন তিনদিনের মধ্যে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর আল ইয়াসিন শিশুসদন হাফিজিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. জিকিরউল্লাহ (৪৫) ও তার ছোটভাই কাওছারকে (৪০)। এছাড়া আরও তিন–চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আরাফাত ওই মাদরাসার নজরানা বিভাগের ছাত্র ছিল।
মামলার বাদী মো. হাসান প্যাদা জানান, পড়া মুখস্থ না হওয়ায় ২২ আগস্ট বেলা দুইটার দিকে আরাফাতকে ধরে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. জিকিরউল্লাহ। এতে আরাফাতের মাথার হাড় ভেঙে যায় ও ডান চোখে গুরুতর জখম হয়।
তিনি মাদরাসায় গিয়ে আরাফাতকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। অসুস্থ আরাফাতকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ আগস্ট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিনই রাত ৯টার দিকে আরাফাত মারা যায়।
এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ জিকিরউল্লাহ ও তার ভাই কাওছারের নামে গত শনিবার দুপুরে বাউফল থানায় মামলা করতে যান হাসান প্যাদা। তবে থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। তাই পরদিন রবিবার তিনি পটুয়াখালী আদালতে গিয়ে নালিশি মামলাটি করেন।
মামলার বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ‘শিশুটির বাবা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলেন। লিখিত অভিযোগ করেননি। এখন আদালতের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে ঘটনার পর থেকে জিকিরউল্লাহ মাদরাসায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইত্তেফাক/এসজেড