কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর উত্তর চর্থা এলাকার নবাব বাড়িটি যেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) ড্রেনের নর্দমা (ময়লা) ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এ বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে কুসিকের ময়লাবাহী গাড়ি প্রতিদিন ময়লা ফেলছে। ভবনের সামনে ময়লার স্তূপ জমায় বাড়িটি এখন অনেকটা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে কুসিক মেয়রের কাছে আবেদন করেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন খান বাহাদুর নবাবজাদা সৈয়দ হোচ্ছাম হায়দারের চতুর্থ বংশধর (ওয়ারিশ) অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সৈয়দ তানভীর হায়দার।
সৈয়দ তানভীর হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, তাদের পূর্বসূরি সৈয়দ বশরত আলী ১৮৭৮ সালে এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। তার বড় বাবা কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান খান বাহাদুর নবাবজাদা সৈয়দ হোচ্ছাম হায়দার এ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। তারা (ওয়ারিশ) এ বাড়ির নির্মাণশৈলী ও ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের কেউ কুমিল্লার বাইরে, কেউবা প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে দেখেন বাড়িটির সীমানা প্রাচীরের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে দিনে-রাতে কুসিকের ময়লাবাহী গাড়ি ড্রেনের ময়লা স্তূপ করছে। ময়লার উত্কট গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে এ বাড়ি ছাড়াও আশপাশের বাসিন্দাদের বসবাস করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়রের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। এখনো সেখান থেকে ময়লার স্তুপ সরিয়ে নেওয়া হয়নি বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, পানি দ্রুত নিষ্কাশনের স্বার্থে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা তাত্ক্ষণিকভাবে গাড়িতে করে ঐ বাড়ির একাংশে স্তূপ করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে পুনরায় গাড়িতে করে এসব ময়লা অন্যত্র অপসারণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে ময়লা থেকে থাকলে তা অপসারণ করে নেওয়া হবে।