খাওয়ানো হচ্ছে কচুরিপানা
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
চাটমোহরে বর্ষার পানিতে গোচারণভূমি ও ঘাসেরখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট। ফলে গরু, মহিষ, ছাগল-ভেড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারি ও পশু মালিকরা। এছাড়া ভাটি এলাকায় গোখাদ্যের সংকট বেশি হওয়ায় গোখামারিরা চলনবিল এলাকা থেকে বেশি দামে খড় কিনে নৌকা ও সড়কপথে নিয়ে যাচ্ছেন ভাটির দিকে।
এদিকে মাঠ থেকে কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করতে না পেরে চলনবিল এলাকার গরু-মহিষের মালিকদের খড়ের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। খড়ের দাম বেশি হওয়ায় কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে গোখাদ্যের চাহিদা মেটাতে গরু-মহিষকে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন।
উপজেলার বোঁথর গ্রামের খামারি মো. আফছার আলী জানান, প্রতি মণ খড় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। খইল ভুসির দামও অনেক বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বিল ও নদী থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে খাওয়াতে হচ্ছে। এতে গবাদি পশু মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গাভি গরুর দুধ উত্পাদনও কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গবাদি পশু পালন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।
চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রোকনুজ্জামান জানান, চাটমোহরে মোট গরুর খামার রয়েছে ৬ হাজার ৪৮২টি। এসব খামারে বর্ষাকালে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। অনেক খামারি খাদ্য সংকটের কারণে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন বলে শুনেছি। তবে গবাদি পশুকে কচুরিপানা না খাওয়ানোই ভালো। এতে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি বলে জানান তিনি। কারণ কচুরিপানা গোখাদ্যের মধ্যে পড়ে না। তবে কচুরিপানা শুকিয়ে স্বল্প পরিমাণে খাওয়ানো যেতে পারে। কাঁচা অবস্থায় খাওয়ানো উচিত নয়।